প্রতারণার শিকার হয়ে উপার্জনের ৯৯% খুইয়েছিলেন রবার্তো কার্লোস, তরুণ ফুটবলারদের দূরদর্শী হওয়ার পরামর্শ বিশ্বজয়ীর

প্রতারণার শিকার হয়ে উপার্জনের ৯৯% খুইয়েছিলেন রবার্তো কার্লোস, তরুণ ফুটবলারদের দূরদর্শী হওয়ার পরামর্শ বিশ্বজয়ীর

পেশাদার ফুটবল জীবনে উপার্জিত বিপুল অর্থ হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন ব্রাজ়িলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী তারকা ডিফেন্ডার রবার্তো কার্লোস। সম্প্রতি এক সম্মেলনে নিজের জীবনের এই অন্ধকার অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে এনে ৫৩ বছর বয়সী এই সাবেক ফুটবলার জানান, অসৎ পরামর্শদাতা ও এজেন্টের খপ্পরে পড়ে নিজের উপার্জনের প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্থই হারাতে হয়েছিল তাঁকে। তবে খেলোয়াড় জীবনে নেওয়া দূরদর্শী পদক্ষেপই তাঁকে পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে।

এক রাতেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

পর্তুগাল ফুটবল সামিটে (Portugal Football Summit) বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের প্রাক্তন তারকা রবার্তো কার্লোস জানান, ভুল মানুষের সঙ্গে ব্যবসা ও অসৎ লোকজনের পরামর্শে বিনিয়োগ করার খেসারত দিতে হয়েছে তাঁকে। পারিবারিক জটিলতা ও এজেন্টদের প্রতারণায় এক রাতের মধ্যেই তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েন।

কার্লোসের কথায়, “একটি বৃহস্পতিবার রাতে যখন ঘুমাতে গেলাম, সব ঠিকই ছিল। কিন্তু শুক্রবার সকালে উঠে দেখি আমার সামনে আইনি কাগজপত্রের স্তূপ, যেগুলির ব্যাপারে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। তখনই বুঝতে পারি, ফুটবল খেলে অর্জিত সম্পদের প্রায় পুরোটাই আমি হারিয়ে ফেলেছি। আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল এবং পরিবার নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছিলাম।”

তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি দূরদর্শিতার বার্তা

পেশাদার ফুটবলে নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে উদীয়মান ও তরুণ ফুটবলারদের সতর্ক করেছেন কার্লোস। তিনি জানান, খেলোয়াড় জীবনে অর্জিত ১৬ কোটি ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,৭৪৩ কোটি টাকা) হারালেও অবসরের পর বিকল্প ক্যারিয়ার নিয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা থাকার কারণেই তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছেন।

খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র পেশাদার ফুটবল জীবনের ওপর ১০০ শতাংশ ভরসা করে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পর জীবন কেমন হবে, তার সঠিক পরিকল্পনা রাখা প্রয়োজন। একজন অ্যাথলিট হিসেবে নিজের ব্র্যান্ড ও ভাবমূর্তি ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমি ফুটবল ছাড়ার আগেই স্পোর্টিং ডিরেক্টর লাইসেন্স নিয়ে রেখেছিলাম এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছিলাম। সেই দূরদর্শিতার সুফলই আজ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।”

উল্লেখ্য, ব্রাজ়িলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একাধিক ঐতিহাসিক ট্রফি জিতেছেন কার্লোস। ২০১৫ সালে ভারতের ইন্ডিয়ান সুপার লিগেও (আইএসএল) খেলে গেছেন তিনি, যেখানে দিল্লি ডায়নামোসের হয়ে তিনটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.