টিকা না পেয়ে অসমের পথে বাংলার মানুষ! ফেরাল না বিজেপি সরকারও

পশ্চিমবঙ্গে মিলছে না কোভিড ভ্যাকসিন। অগত্যা সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী রাজ্য অসমের টিকাকেন্দ্রে ভিড় করছেন কোচবিহার – এর মনুষ। অসমের টিকাকেন্দ্রে গিয়ে ভ্যাকসিন-ও পাচ্ছেন বাংলার মানুষরা। বাংলার মানুষ হলেও তাতে বাধ সাধেনি অসম সরকার। পরিচয় পত্র দেখে বাংলার মানুষদেরও ভ্যাকসিন দিচ্ছে হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকার।

এই মানুষদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে মিলছে না করোনার ভ্যাকসিন। তাই ভ্যাকসিন নিতে তাঁদের যেতে হচ্ছে প্রতিবেশী রাজ্য অসমে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের বাসিন্দারা মঙ্গলবার থেকে অসম-বাংলা সীমান্তের ছাগলিয়ায় কোভিড ভ্যাকসিনের বিশেষ শিবিরে যাওয়া শুরু করেছেন। সেই শিবিরে যেমন অসমের বাসিন্দাদের ভিড় হচ্ছে, তেমনি সীমান্ত সংলগ্ন তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের বাসিন্দাদের ভিড়-ও বেশি বলে অসম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ জনের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে এখানে। মঙ্গল-বুধবার ২ দিনে মহকুমার তুফানগঞ্জ বালাকুটি শিলঘাগুড়ি, ভানুকুমারী, শালডাঙ্গা, বক্সিরহাট প্রভৃতি এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ মানুষ এই শিবিরে ভ্যাকসিন নেন।

বাংলায় ভ্যাকসিন না পেলেও সীমান্ত পেরিয়ে অসমে গিয়ে সহজেই ভ্যাকসিন মেলায় খুশি অসম-বাংলা সীমান্তে বসবাসকারী পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা। অপরদিকে, প্রতিবেশী রাজ্যের মানুষকে সহযোগিতা করতে পেরে খুশি অসম প্রশাসনও।

বালাকুঠির, তুফানগঞ্জ, ভানুকুমারীর বাসিন্দারা জানান, তাঁরা করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ঘুরেছেন। কিন্তু কোথাও ভ্যাকসিন নিতে পারেননি। অবশেষে খবর পেয়ে সীমান্ত পেরিয়ে অসমে এসে তাঁরা সহজেই ভ্যাকসিন নিতে পেরে খুব খুশি। সেই সঙ্গে তাঁরা এও জানান, যেভাবে এই শিবিরে ভ্যাকসিনের পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে, সেই ব্যবস্থাতেও তাঁরা খুশি। অসমের ছাগলিয়ার ওই শিবিরের দায়িত্বে থাকা অসমের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ২৫০ জনের টিকাকরণ করছেন। একটি পরিচয়পত্র থাকলেই ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। অসম বা বাংলার মানুষ হিসাবে কাউকে আলাদা বিচার করা হচ্ছে না।

অসম সরকারের টিকাগ্রহণ কেন্দ্রে বাংলার লোকেরা গিয়ে করোনার টিকা নেবার ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহারের প্রশাসনের অন্দরে। যদিও এই বিষয়ে কোনও কিছু বলতেও রাজি হননি তুফানগঞ্জ ২ নং ব্লকের কোনও প্রশাসনিক আধিকারিক। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সীমান্ত সংলগ্ন অসমের শিবিরে কাদের ভ্যাকসিন দেবেন সেটা ওই রাজ্যের ব্যাপার। বিষয়টি তারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তাঁর আরও বক্তব্য, তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের বাসিন্দাদের নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে তারা ৮৭,০০০ মানুষ ভ্যাকসিন পেয়েছেন। পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলবে। তা সত্ত্বেও কেউ অসমে গিয়ে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন কি না সেই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.