স্পেশাল পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগের পর এ বার স্পেশাল অবজার্ভার!

কাল বাদে পরশু, বৃহস্পতিবার বাংলায় লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ। তার আগে রাজ্যের জন্য স্পেশাল অবজার্ভার নিয়োগ করে দিল নির্বাচন কমিশন। ১৯৮৪ ব্যাচের এই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার তথা বিহারের নির্বাচন দফতরের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক অজয় ভি নায়েককে সেই পদে বসানো হল। সম্ভবত কাল থেকেই দায়িত্ব ভার গ্রহণ করবেন তিনি।

কমিশনের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বাংলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, এর অর্থ পরিষ্কার, বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করানোর জন্য ত্রুটি রাখতে চাইছে না কমিশন। অতীতে একই ভাবে একবার অবসরপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার কে জে রাওকে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করেছিল কমিশন। পরে দুঁদে আমলা আফজল আমানুল্লাহকে একই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তখন ছিল বাম জমানা। ভোটে সন্ত্রাস ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে তখন কমিশনের কাছে সুবিচার চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতোদিনে বৃত্ত বোধ হয় সম্পূর্ণ। তৃণমূল জমানায় অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করাতে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হচ্ছে কমিশনকে। অর্থাৎ পরিবর্তনের পরেও ট্রাডিশন বদলায়নি বাংলায়।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট গ্রহণের আগে বিশেষ কেন্দ্রীয় পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে দিয়েছিল নির্বাচন সদন। প্রথমে বিএসএফের প্রাক্তন ডিজি কে কে শর্মাকে নিয়োগ করা হলেও পরে তৃণমূলের আপত্তিতে তাঁকে সরিয়ে প্রাক্তন আইপিএস কর্তাকে বিবেক দুবেকে সে পদে বসানো হয়েছে। কমিশনের এ দিনের ঘোষণায় পরিষ্কার দ্বিতীয় দফার ভোট পুরো নজর থাকবে নতুন পর্যবেক্ষকের।

এখন প্রশ্ন হল, কেন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হল নির্বাচন কমিশনকে?

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে এর সুনির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা এ দিন দেওয়া হয়নি। তবে কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার দিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগের কার্যকারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “কোনও রাজ্যে ভোট গ্রহণের সময় স্পর্শকাতরতা অনুভব করলে তথা প্রয়োজন পড়লে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। কমিশন এখনই ঠিক করে রাখেনি কোথায় কোথায় বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এর মানে স্পষ্ট। বাংলায় বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে রাজনীতির লোকজন এর অন্য অর্থও করতে শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, রাজ্য নির্বাচন দফতরের কার্যকলাপ ও ভোটের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকায় যে কমিশনের ভরসা নেই তা প্রকারান্তরে এতে প্রমাণ হচ্ছে। কারণ, বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক যেমন পুলিশি ব্যবস্থার উপর নজর রাখছেন এবং তাঁর সুপারিশ মানতে হচ্ছে রাজ্য প্রশাসনকে। তেমনই এ বার বিশেষ পর্যবেক্ষকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিককেও।

কমিশনের এই পদক্ষেপ নিয়ে বাংলার শাসক দল এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। কিন্তু বিজেপি, কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে বিজেপি মুখপাত্রদের বক্তব্য, এখনই সন্তোষ প্রকাশের ব্যাপার নেই। ভোট অবাধ হচ্ছে কিনা সেটা আগে দেখতে চাই আমরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.