ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রাহ্মস মিসাইল কেনার ব্যাপারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলি ভারতের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ডলারের খরচে এটি তৈরি হয়েছে। যা বিশ্বের মধ্যে একটি কম বাজেটের সবচেয়ে দক্ষ মিসাইল ক্ষেপণাস্ত্র। ভারত বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তির মধ্যে একটি হওয়া সত্বেও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। ফিলিপাইনস, দক্ষিণ কোরিয়া, আলজেরিয়া, গ্রীস, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিশর, সিঙ্গাপুর, এবং বুলগেরিয়ার মতো দেশগুলি ব্রাহ্মস ও আকাশ মিসাইলে আগ্রহ দেখিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র গুলি ভারতে নির্মিত। 

এক সরকারি কর্মকর্তার মতে ভারত থেকে কিছু অস্ত্রোপোকরণ রপ্তানি হলেও, যা প্রকৃত অর্থে প্রতিরক্ষা রপ্তানি নয়, তেমন কোনো অস্ত্রশস্ত্র ভারত কখোনো রপ্তানি করেনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আগ্রহ থেকে তাই বোঝা যায় ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে একটি অসাধারণ অগ্রগতি করেছে। সরকারকে এই চুক্তিগুলি নিশ্চিত করার জন্য হস্তক্ষেপ করতে হবে যাতে ঐ দেশগুলিতে ভারতের একটি দৃঢ় অবস্থান তৈরিতে সুবিধা হবে। তাছাড়া রপ্তানি অর্থনীতির বিকাশও ঘটাবে। আসিয়ান দেশগুলি ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার চিলি এবং BRICS গোষ্ঠীভুক্ত ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বিভিন্ন দেশ ব্রাহ্মস মিসাইলের জন্য ভারতকে প্রস্তাব দিয়েছে।


আমেরিকার প্রধান প্রতিরক্ষা সামগ্রী নির্মাতা লকহিড মার্টিন ভারতে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেডের (টিএএসএল) এর সাথে এফ -১৬ যুদ্ধ বিমানের ডানা তৈরি করার কথা আগেই ঘোষণা করেছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর মেক ইন ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে অগ্রগতি দেবে। ভারতীয় বিমান বাহিনী এফ -১৬ ব্লক ৭০ যুদ্ধ বিমানটি নির্বাচন করলে তা ভারতে তৈরির জন্য লকহেড মার্টিন এবং টিএএসএল হাত মিলাবে বলে তাদের অভিপ্রায় গত বছর ঘোষণা করেছিল। প্রায় ১২,০০০ ঘন্টার পরিষেবা জীবনী সহ এফ -১৬ ব্লক ৭০ সক্রিয় ইলেকট্রনিক্যালী স্ক্যানড অ্যারে (এআইএসএ) রেডার, আধুনিক ককপিট, উন্নত অস্ত্র, স্বয়ংক্রিয় স্থল সংঘর্ষ এড়ানোর ব্যবস্থার মতো উন্নত বৈশিষ্ঠ্য যুক্ত একটি আধুনিক ইঞ্জিন।

ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদির মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের কারনে প্রতিরক্ষা খাতে ১ লক্ষ কোটির  বেশি অর্থ খরচ আটকানো গেছে। গত কয়েক বছরে ভারতে একাধিক প্রতিরক্ষা ডিজাইন এবং উত্পাদন প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তির ক্ষমতা এবং দক্ষতা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অপরিহার্য। তবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিরক্ষা আমদানিকারক ভারত উন্নত অস্ত্র সরবরাহের জন্য অন্য দেশগুলির উপর নির্ভরশীল।

বৈদেশিক ক্ষেপনাস্ত্রের বিকল্পের জন্য ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) দেশীয় প্রচেষ্টায় একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। নৌবাহিনীর জন্য প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার ক্ষুদ্র পরিসরের এসআর-এসএএম ক্ষেপনাস্ত্র যা শত্রু পক্ষের যুদ্ধ বিমান ও মিসাইলকে কাছ থেকে ধ্বংস করতে সক্ষম সহ ডিআরডিও সেনাবাহিনীর জন্য ২০,০০০ কোটি টাকার ক্ষুদ্র পরিসরের এসআর-এসএএম SR-SAM (short range surface to air missiles) দেশীয় সেন্সর সহ ক্ষেপনাস্ত্র আকাশ সরবরাহ করার প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগে সরকারের প্রচেষ্টার ফল মিলেছে। এতে কেবল ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ হয়নি বরং বিদেশী নির্মাতাদের উপর নির্ভরশীলতা কমেছে। কারন ভূ-রাজনৈতিক চাপের সময়ে বিদেশী নির্মাতার প্রতি বিশ্বাস হারানোর প্রবনতা বাড়তে পারে। মেক ইন ইন্ডিয়ার ফলে সহজে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে ২০১৪ সালে ১৪২ তম থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৭৭ তম অবস্থানে ভারতের উন্নতি হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে ভারতের অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে শুরু করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.