সবাই ভোট দিক, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাচ্ছে RSS

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবে ভোটাধিকার রয়েছে এমন নাগরিকদের যোগদান হোক একশ শতাংশ৷ এমনটাই চাইছে আরএসএস৷ বাংলার সাধারণ ভোটারদের ভোটদানের গুরুত্ববোঝাতে ‘ডোর টু ডোর’ প্রচারও করছে দেশের সবচেয়ে বড় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটি৷ বাংলা আরএসএস-এর প্রচার প্রমুখ বিপ্লব রায় জানা, ‘‘শেষ দু’বছর ধরে ভোট দেওয়া নিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার চেষ্টা করছি৷ এবিষয়ে আমাদের পথপ্রদর্শক হয়েছেন ভইয়াজী জোশি৷’’

মোট তিনটি বিষয় নিয়ে রাজ্যের মানুষকে সচেতন করার কাজ করছে আরএসএস

১- রাজ্যের সমস্ত ভোটারদের ভোটদান৷
২- রাজ্যে সদ্য প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া যুবক যুবতিদের ভোটারতালিকায় নাম সংযুক্তিকরণ৷
৩- ‘নোটা-ভোট’ যতটা সংখ্যা কমানো৷

হিন্দু জাতীয়তাবাদের কথা বললেও নিজেদের বারবার অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেই তুলে ধরেছে আরএসএস৷ যদিও আরএসএস-কেই বিজেপির ধাতৃসংগঠন বলে থাকেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে রাজ্যজুড়ে বিজেপির হয়ে নির্বাচন প্রচার করছে আরএসএস? এই প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি ‘না’ বললেন বাংলা আরএসএসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বিপ্লব রায়৷ তিনি বলেন, ‘‘ আরএসএস, রাজ্যের সাধারণ ভোটারদের তার একটি ভোটের গুরুত্ব বুঝিয়ে তাদের ভোটদানে আগ্রহী করানোর জন্য কাজ করছে আরএসএস৷ আমরা ভোটারদের নিজেদের পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোট দিতে বলছি৷ বিজেপি বা অন্য কোনও দলের হয়ে আমরা প্রচার করছি না৷’’

রাজ্য এবং দেশের সব ভোটারদের ভোটদান কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? উত্তরে আরএসএস প্রচার প্রমুখের বক্তব্য, দেশে শক্তিশালী সরকারের জন্য এটা প্রয়োজন৷ পাশাপাশি এটাও মনে রাখবেন আপনি ভোট দিতে গেলেন না মানে নিজের পছন্দের প্রার্থীর জন্য একটি ভোট নষ্ট করার পাশাপাশি অপছন্দের প্রার্থীকে জেতার জন্য একধাপ এগিয়ে দিলেন৷ ভারতের প্রাপ্তবয়স্ক জনগনের অধিকার ভোট দেওয়া৷ এটার গুরুত্ব বোঝাতেই আমরা কাজ করছি৷

শেষ পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনে রাজস্থান, ছত্রিশগড়ের মতো রাজ্যে ‘নোটা’য় ভোট দিয়েছেন বেশ কিছু মানুষ৷ নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর দেখা গিয়েছে এই নোটা ভোটা বিজেপির জন্য বুমেরাং হয়েছে৷ স্বাভাবিকভাবেই নোটায় ভোট না দেওয়ার জন্যও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজ করছে আরএসএস৷ বিপ্লববাবুর মতে, গণতন্ত্রে প্রার্থীকে পছন্দ না করার অধিকার ভোটারদের রয়েছে৷ সুপ্রিমকোর্ট সেই অধিকার রয়েছে৷ কিন্তু নোটায় ভোট নিজের কেন্দ্রের সবচেয়ে অপছন্দের প্রার্থীর জেতার সুযোগ করে দিতে পারে৷ এটা একধরণের ওয়াকওভার৷ তাই আমরা চাইছি সবাই সার্বিকভাবে এই ভোটে অংশগ্রহণ করুক৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.