চিকিৎসার সরলীকরণে স্বাস্থ্যকার্ডের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী

Ayushman Bharat: 'অকল্পনীয় এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ', চিকিৎসার সরলীকরণে স্বাস্থ্যকার্ডের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই আসছে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন। সোমবার আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন(Ayushman Bharat Digital Mission)-র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। চিকিৎসক্ষেত্রে গতি আনতে এবং চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে সমন্বয় আনতেই উদ্বোধন করা হল আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের।

অনুষ্ঠানের সূচনাতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসাক্ষেত্রে আধুনিকিকরণের সময় এসেছে। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে যখন হাসপাতালের দ্বারস্থ হন, তখন অধিকাংশের কাছেই কোনও মেডিক্যাল রেকর্ড থাকে না। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল বা এক চিকিৎসকের কাছ থেকে অন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়, তখন তাদের কাছে পুরনো কোনও রেকর্ড না থাকায় ফের নতুন করে তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হয়। এতে চিকিৎসক ও রোগী-উভয়েরই সময় নষ্ট হয়। এই সমস্যাকে দূর করতেই আমাদের এই নতুন পদক্ষেপ।”

আজকের দিনটি অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ, একথা উল্লেখ করে নমো জানান, এই প্রকল্পটি দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করছে। গত ৭ বছরে দেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। কিন্তু এই অধ্যায়টি সাধারণ নয়, এটি একটি অকল্পনীয় অধ্যায়, যা সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমেই।

স্বাস্থ্যক্ষেত্রের এই নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আয়ুষ্মান ভারতের এই ডিজিটাল প্রকল্পে দেশের সকল জনগণের কাছে একটি স্বাস্থ্যকার্ড থাকবে। এই কার্ডেই একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় র্কর্ড নথিভুক্ত থাকবে। ফলে চিকিৎসকরাও সহজেই রোগীর সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন। ভাষাগত বিভেদকে মিটিয়ে দেশের যেকেনও প্রান্তের চিকিৎসকদের কাছে রোগীকে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টাও চালানো হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

দেশের গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের চিকিৎসা পেতে বিশেষ সাহায্য করবে এই স্বাস্থ্যকার্ড এমনটাই মত প্রধানমন্ত্রীর। তিনি জানান,   এ বা থেকে অনলাইন মাধ্যমেই সমস্ত নাগরিকের স্বাস্থ্য রেকর্ড পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে বজায় রাখা হবে তথ্যের গোপনীয়তাও।

কীভাবে সাহায্য করবে স্বাস্থ্য কার্ড?

আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল প্রকল্পের অধীনে সকল দেশবাসীকে ১৪ ডিজিটের একটি ইউনিক আইডির স্বাস্থ্যকার্ড দেওয়া হবে। এটির সঙ্গেই তাদের নামে তৈরি স্বাস্থ্য অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীর সম্মতিক্রমেই এই তথ্য এক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে অপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা এক চিকিৎসক অপর চিকিৎসকের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই।

এই স্বাস্থ্য অ্যাকাউন্টে রোগীর সমস্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট থেকে শুরু করে প্রতিটি রোগ, কোন কোন চিকিৎসকের কাছে তিনি গিয়েছেন, কী কী ওষুধ খাচ্ছেন, এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যই বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষণ করা থাকবে। এরফলে রোগী পরিবারের সঙ্গে সবসময় যাবতীয় রিপোর্ট না থাকলেও চিকিৎসা করতে কোনও সমস্যা হবে না।

নাম, ফোন নম্বর ও আধার কার্ডের তথ্য দিয়েই এই স্বাস্থ্য় অ্য়াকাউন্ট সহজেই তৈরি করা হবে। নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে বা স্বাস্থ্য়কেন্দ্রের রেজিস্ট্রি বা চিকিৎসকের রেজিস্ট্রি দিয়ে সহজেই এই রেকর্ড দেখা যাবে এবং অতিরিক্ত তথ্য যোগও করা যাবে। এই স্বাস্থ্যকার্ড তৈরি করার জন্য কোনও খরচও পড়বে না।

ডিজিটাল প্রকল্পের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের পর্যালোচনার মাধ্যমেই আরও ভাল পরিকল্পনা, বাজেট বরাদ্দ এবং জেলা ও রাজ্যস্তরে নানা স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা করা যাবে। আলাদাভাবে প্রয়োজনীয় তথ্যের খোঁজ করতে না হওয়ায়, বিপুল পরিমাণ অর্ত সঞ্চয়ও হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.