বহুল আলোচিত ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’-এর বর্তমান স্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শনিবার মন্ত্রকের তরফে সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যপালের মাধ্যমে সংরক্ষিত এই বিলটি বর্তমানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বিবেচনা এবং অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এটি এখনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার একটি সংবাদসংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, প্রস্তাবিত বিলের কিছু বিধির সঙ্গে কেন্দ্রীয় মাদকবিরোধী আইন ‘এনডিপিএস’-এর সংঘাত তৈরি হওয়ায় রাষ্ট্রপতি তা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নানা জল্পনা ও সমালোচনা।
তবে সমস্ত জল্পনা ও অপপ্রচার উড়িয়ে দিয়ে শুক্রবার রাতেই এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিলটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিলে ‘গুন্ডাদমন’ বা ‘গুন্ডা’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিলটির দুটি প্রধান অংশ ছিল, যার মধ্যে একটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সুদ-সহ তিন গুণ টাকা আদায়ের মতো কঠোর পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে এবং এই আইনের আওতায় বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
বিলটি রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলো নিয়ম মেনেই কেন্দ্র ও রাজ্যের আলোচনার ভিত্তিতে এই কাজ করছে। প্রস্তাবিত বিলে তিন বছর পর্যন্ত সাজার বিধানকে জামিন অযোগ্য (নন-বেলেবল) হিসেবে রাখা হয়েছে বলেই এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমেই এগোচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

