মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক রোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। এক অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল টাকা জয়ের টোপ দিয়ে দাদু-দিদিমাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। এর পর ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে তাঁদের ১৭ বছর বয়সী নাবালিকা নাতনিকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শনিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে বেলডাঙার মোহলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
ফোনে লটারির টোপ, ফাঁকা করা হয় বাড়ি
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নাবালিকা স্থানীয় একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে দীর্ঘদিন ধরে বেলডাঙার মোহলা গ্রামে তার মামার বাড়িতে দাদু, দিদিমা, মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে থাকত। পারিবারিক অশান্তির কারণে বেশ কয়েক বছর আগে তার মা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে পাকাপাকিভাবে চলে আসেন।
শনিবার দুপুরে নাবালিকার দাদুর মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি দাবি করে যে, একটি অনলাইন গেমে তিনি বিপুল টাকা জিতেছেন এবং সেই অর্থ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এই আকস্মিক ফোন পেয়ে ঘাবড়ে যান ওই প্রৌঢ়। তিনি তড়িঘড়ি তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় ব্যাঙ্কের শাখায় খোঁজখবর করতে যান। সেই সময় নাবালিকার মা ও ভাইও বাড়িতে ছিলেন না। ফলে একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী বাড়িতে সম্পূর্ণ একা ছিল।
ঘরে পড়েছিল রক্তাক্ত দেহ, পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ
বিকেলে ব্যাঙ্ক থেকে দাদু-দিদিমা বাড়ি ফিরে ঘরে ঢুকতেই আঁতকে ওঠেন। তাঁরা দেখেন, ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে নাতনির দেহ। তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দ্রুত রক্তাক্ত ছাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর।
বৃদ্ধ দম্পতির অভিযোগ, এটি একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের পরিচিত বা পূর্বপরিচিত কেউই পুরো বিষয়টি ছক কষেছিল। তাঁরা যাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান, তার জন্যই লটারির ভুয়ো ফোনের ফাঁদ পাতা হয়েছিল। এর পর বাড়ি ফাঁকা হওয়ার সুযোগ নিয়ে ভেতরে ঢুকে নাতনিকে খুন করা হয়েছে।
তদন্তে বেলডাঙা থানার পুলিশ
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়াতেই মোহলা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বেলডাঙা থানার পুলিশ বাহিনী। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, কোনও পুরনো শত্রুতার জেরে বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পেছনে বড় কোনও অপরাধ চক্র জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেলডাঙা মহকুমার পুলিশ আধিকারিক (SDPO) আনন্দজিৎ হোড় এই প্রসঙ্গে জানান, ‘‘বাড়ি থেকে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ও এর নেপথ্যে থাকা উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’’ অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং ওই ভুয়ো ফোন নম্বরের কল ডিটেইলস (CDR) খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

