রিষড়ায় স্ত্রীকে নৃশংস খুনের পর বেলগাছিয়া মেট্রোয় ঝাঁপ দিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা, নেপথ্যে পরকীয়া সন্দেহ

রিষড়ায় স্ত্রীকে নৃশংস খুনের পর বেলগাছিয়া মেট্রোয় ঝাঁপ দিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা, নেপথ্যে পরকীয়া সন্দেহ

হুগলির রিষড়ায় স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করার পর কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন অভিযুক্ত স্বামী। শনিবারের এই জোড়া ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রিষড়া ও কলকাতা— দুই এলাকাতেই। মৃতদের নাম মনিকা সরকার ও দীপঙ্কর সরকার। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দাম্পত্য কলহ এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে তৈরি হওয়া সন্দেহের জেরেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন দীপঙ্কর।

বিছানায় স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ, পাশে ৬ বছরের কন্যা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রী মনিকা সরকার এবং তাঁদের ৬ বছরের কন্যাকে নিয়ে রিষড়ার ৩ নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি প্রাথমিক স্কুলের পাশে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন দীপঙ্কর সরকার। শুক্রবার রাতে ওই বাড়ি থেকে মনিকাদেবীর চিৎকার শুনতে পেয়েছিলেন প্রতিবেশীরা।

এর পর শনিবার সকালে ওই ঘর থেকে মনিকাদেবীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার সময় বিছানায় মায়ের রক্তাক্ত দেহের পাশেই শুয়েছিল তাঁদের ৬ বছরের শিশুকন্যা। রিষড়া থানা পুলিশ দেহটি উদ্ধার করার সময় দেখতে পায়, মনিকাদেবীর গলায় গভীর ক্ষতের দাগ রয়েছে এবং ঘরের ভেতর একটি শাড়ি ঝুলছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রথমে শ্বাসরোধ করার পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে খুন করা হয়েছে মনিকাকে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন স্বামী দীপঙ্কর।

বেলগাছিয়া মেট্রোয় ঝাঁপ, ব্যাহত পরিষেবা

রিষড়া থেকে পালিয়ে শনিবার দুপুরে কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে পৌঁছান দীপঙ্কর। সেখানে আপ লাইনে ট্রেন আসতেই তিনি লাইনের ওপর ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এই আত্মহত্যার ঘটনার জেরে শনিবার দুপুরে দমদম থেকে গিরিশ পার্ক স্টেশন পর্যন্ত আপ ও ডাউন— উভয় লাইনেই মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আচমকা এই ঘটনায় চরম ভোগান্তির শিকার হন নিত্যযাত্রীরা। প্রাথমিক অবস্থায় মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা না গেলেও, পরে পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট হয় যে আত্মঘাতী ব্যক্তিই রিষড়াকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত দীপঙ্কর।

পরকীয়া সন্দেহ নিয়ে বিবাদ, এফআইআর-এর পরেই চরম সিদ্ধান্ত

চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (শ্রীরামপুর) অর্ণব বিশ্বাস জানান, মনিকাদেবীর বাপের বাড়ির সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে রিষড়া থানায় দীপঙ্করের বিরুদ্ধে খুনের এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়েছিল। পুলিশ যখন তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই উল্টোডাঙা থানার অন্তর্গত বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশন থেকে তাঁর আত্মহত্যার খবর আসে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, স্ত্রী মনিকার অন্য কারও সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ করতেন দীপঙ্কর। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই তীব্র বিবাদ লেগেই থাকত। শুক্রবার রাতের বচসা চরম রূপ ধারণ করলে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী হন দীপঙ্কর। ঘটনার তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.