উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক যুবকের রহস্যমৃত্যু হয়েছে। ইজ্জতনগর এলাকার কৈলাশপুরমে একটি বন্ধ ঘর থেকে নিখিল অরোরা নামক ওই যুবকের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে তাঁর পোষ্য ল্যাব্রাডর কুকুর ‘ডলার’-এর দেহও। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, পোষ্যকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার পর নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন ওই যুবক।
মৃত্যুর কারণ ও পটভূমি: পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিখিল দীর্ঘদিন ধরেই চরম আর্থিক অনটন ও মানসিক অবসাদের মধ্যে ছিলেন। কোভিডের সময় তিনি চাকরি হারান। এর আগে ২০১৫ সালে তাঁর বাবার মৃত্যু হয় এবং ২০২১ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মা মারা যান। পরিবারের আর্থিক হাল ফেরাতে শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিজের বাড়িও বিক্রি করতে হয়েছিল। মৃতের ভাই ধীরাজ কুমার জানিয়েছেন, নিখিল অনেকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং সেই ধার শোধ করার প্রবল চাপে তিনি বিপর্যস্ত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতাও তাঁর অবসাদ বাড়িয়েছিল বলে দাবি করেছেন নিখিলের এক আত্মীয়। তিনি জানান, একটি সম্পর্কের জেরে নিখিল বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আর্থিক দুরবস্থার কারণে সেই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ার খবর নিখিলকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করেছিল।
ঘটনাক্রম: ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার, যখন ভাই ধীরাজ বারবার ফোনে নিখিলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর তিনি নিখিলের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখেন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ইজ্জতনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নিখিল ও তাঁর পোষ্য কুকুরের দেহ উদ্ধার করে।
তদন্তকারীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে দুটি বন্ধ বাটারমিল্কের প্যাকেট, একটি খালি প্যাকেট এবং একটি বিষাক্ত কীটনাশকের খালি পাত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাটারমিল্কে বিষ মিশিয়ে প্রথমে কুকুরটিকে খাওয়ানো হয়, পরে ওই মিশ্রণ পান করেই নিখিল আত্মহত্যা করেন।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ইজ্জতনগর থানা জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। চাকরি হারানো, বাবা-মায়ের অকাল মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত জীবনে ব্যর্থতার পর একাকীত্বের অভিশাপ কীভাবে একটি তরতাজা প্রাণকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিল, তা নিয়ে শোকের ছায়া নেমেছে ওই এলাকায়।

