ভোটের আবহে ঘরে ফেরা: নাগরিকত্বের সংকটে আতঙ্কিত পরিযায়ী শ্রমিক ও প্রবাসীরা

ভোটের আবহে ঘরে ফেরা: নাগরিকত্বের সংকটে আতঙ্কিত পরিযায়ী শ্রমিক ও প্রবাসীরা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদান নিয়ে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা। এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং অনেক ভোটারের কাছেই তা নিজের পরিচয় ও নাগরিকত্বের অধিকার রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা ‘বিবেচনাধীন’ (Under Consideration) তালিকার জটিলতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রাজধানী দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে কর্মরত প্রবাসী বাঙালিরা।

বিমানের টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম: ভোটে অংশ নেওয়ার জন্য প্রবাসীদের মধ্যে বাড়ি ফেরার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে দিল্লি থেকে কলকাতা রুটের বিমানের টিকিটের চাহিদা এতই বেড়েছে যে, সাধারণ সময়ের সাত-সাড়ে সাত হাজার টাকার টিকিট বর্তমানে ৩২ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। প্রবাসীদের মধ্যে অনেকেই প্রথম দফার ভোট (২৩ এপ্রিল) বা দ্বিতীয় দফার (২৯ এপ্রিল) ভোট দেওয়ার লক্ষ্যে বিমানের টিকিট বুক করছেন। শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটার ফলে এই আকাশছোঁয়া খরচ বহন করতে হচ্ছে তাঁদের।

কেন এই আতঙ্ক? নির্বাচন কমিশনের খসড়া তালিকায় প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়ে গিয়েছে। আবার অনেকের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ‘ডিলিটেড’ হিসেবে উঠে আসছে। এই অনিয়ম ও অস্পষ্টতার কারণেই ভোটারদের মধ্যে প্রবল ভীতি কাজ করছে—ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ যেতে পারে কি না! তাঁদের আশঙ্কা, ভোট না দিলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে সরকারি নথিপত্রে সমস্যা হতে পারে।

পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার লড়াই: শুধু উচ্চবিত্ত প্রবাসীরাই নন, কেরালা, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও কর্নাটক থেকে দলে দলে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কাজের জায়গা ছেড়ে হঠাত্‍ চলে আসায় অনেকের মজুরি কাটা যাচ্ছে, এমনকি কাজ হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। কিন্তু ‘পরিচয় বাঁচানোর লড়াই’য়ে শ্রমিকরা এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিকের মনে দৃঢ় ধারণা, বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদান না করলে সরকারি নথিপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের তালিকার এই বিভ্রান্তি সাধারণ মানুষের মধ্যে এতটাই গভীর প্রভাব ফেলেছে যে, তারা পেশাগত ক্ষতি স্বীকার করেও এই ভোট প্রক্রিয়ায় সামিল হতে মরিয়া। আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার মতো মনে হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে নাগরিকত্বের নথিপত্র হারানোর এক গভীর উদ্বেগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.