‘অভিনয় শুরুর আগে নানা জায়গায় আমার আঁকা ছাপা হত’, এখনও রং-তুলির অভ্যাস আছে বিশ্বজিতের?

‘অভিনয় শুরুর আগে নানা জায়গায় আমার আঁকা ছাপা হত’, এখনও রং-তুলির অভ্যাস আছে বিশ্বজিতের?

ছেলের নতুন সিনেমার খবরের পর ক্যানভাসে রং-তুলির টানে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এক অনন্য রূপ ফুটিয়ে তুললেন তাঁর বাবা তথা বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। চোখে রোদচশমা, মাথায় টুপি, কাঁধ পর্যন্ত নামা লম্বা চুল আর একগাল দাড়ি— অবিকল এক ‘রকস্টার’ লুকে ধরা দিয়েছেন প্রসেনজিৎ। বাবার আঁকা এই বিশেষ পোট্রেটটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে নিজের ভালোলাগা ও গর্বের কথা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা।

সহজাত গুণেই ক্যানভাসে ম্যাজিক

অভিনয় জগতে আসার আগে থেকেই রং-তুলির প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। তবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই এই শিল্পকে নিজের আয়ত্তে এনেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে আনন্দবাজার অনলাইনকে বর্ষীয়ান অভিনেতা বলেন:

“এটা আমার ঈশ্বরপ্রদত্ত গুণ বলা যেতেই পারে। কারণ, কোনো দিন কারও কাছে ছবি আঁকা শিখিনি। একটা সময় আমার আঁকা ছবি জনপ্রিয় ‘উল্টোরথ’ ম্যাগাজিনেও ছাপা হতো। তখন চারকোল বা অয়েল পেইন্টিং—সবই করতাম। এখন বার্ধক্যের কারণে সেভাবে আর নিয়মিত চর্চা করা হয় না।”

তিনি আরও জানান, এখনও অবসরে কোথাও ঘুরতে গেলে প্রকৃতির ছবি আঁকতে তিনি দারুণ পছন্দ করেন।

প্রচার-ঝলক দেখেই ‘রকস্টার’ বুম্বার ছবি

খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নতুন চলচ্চিত্র ‘অভিমান’। সিনেমাটির সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত প্রচার-ঝলক (ট্রেইলার) ও গান ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে। কয়েক সেকেন্ডের সেই ঝলকে প্রসেনজিৎকে একজন রকস্টারের ভূমিকায় দেখা গেছে।

বিশ্বজিৎবাবু জানান, তাঁর মেয়েই প্রথম তাঁকে প্রসেনজিতের এই নতুন ছবির প্রচার-ঝলকটি দেখান এবং গানটি শোনান। তা দেখার পর থেকেই ছেলেকে নিয়ে ছবি আঁকার ইচ্ছা জাগে তাঁর। তবে মজার বিষয় হলো, কোনো ছবি সামনে রেখে বা নকল করে তিনি এটি আঁকেননি। নিজের মনের কল্পনায় প্রসেনজিতের যে ‘রকস্টার’ রূপটি ভেসে উঠেছিল, ঠিক সেটিই ফুটিয়ে তুলেছেন ক্যানভাসে। ছবি আঁকা শেষ করে তিনি নিজেই সেটি ছেলেকে পাঠান, যা দেখে অভিভূত হন প্রসেনজিৎও।

ছেলের সাফল্যে গর্বিত বাবা

ছেলের নতুন কাজ নিয়ে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কৌতূহল ও উদ্দীপনা একজন সাধারণ ভক্তের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তবে বার্ধক্যজনিত কারণে বর্তমানে কলকাতা গিয়ে সিনেমাটি দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “কলকাতায় যেতে না পারলেও, বুম্বা (প্রসেনজিৎ) যদি মুম্বইয়ে কোনো বিশেষ প্রদর্শনীর (স্পেশাল স্ক্রিনিং) ব্যবস্থা করে, তবে আমি অবশ্যই যাব। আমার আশীর্বাদ সবসময় ওর সঙ্গে আছে। ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পাওয়ার পরও ও প্রথমে এসে আমার সঙ্গেই দেখা করেছিল। ও আরও অনেক উন্নতি করুক, এটাই বাবা হিসেবে আমার একমাত্র প্রার্থনা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.