পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকালীন উত্তেজনা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বড় আপডেট এল ফিফা কংগ্রেস থেকে। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে আয়োজিত এই অধিবেশনে ইরানি ফুটবল দলের আমেরিকায় খেলতে আসা নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটালেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অনুরোধে ইরান সম্পর্কে নিজের কট্টর অবস্থান থেকে সরে এসে সুর নরম করেছেন তিনি।
“ওদের খেলতে দাও”: ট্রাম্পের সবুজ সংকেত
সম্প্রতি ইরানকে দেওয়া মার্কিন হুমকির জেরে বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান অবশ্যই বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং তাদের ম্যাচগুলো আমেরিকাতেই অনুষ্ঠিত হবে। ইনফান্তিনোর এই অনমনীয় অবস্থানের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ভাষণে বলেন:
“জিয়ান্নি (ইনফান্তিনো) যখন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তখন আমার আর কোনও আপত্তি নেই। ও আমার বন্ধু এবং অসাধারণ মানুষ। জিয়ান্নি আগেই এ নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছিল। আমি বলেছি, তোমার যা ইচ্ছা করতে পার। ওদের দল ভালো কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে, তবুও বলব— ওদের খেলতে দেওয়া উচিত।”
ফিফা সভাপতি এই প্রসঙ্গে ফুটবলকে বিশ্ব ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ফুটবল বিশ্বকে একসূত্রে বাঁধার দায়িত্ব ফিফার এবং ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।
ফিফা মঞ্চে ব্যর্থ ‘শান্তি প্রস্তাব’: হাত মেলালেন না প্যালেস্টাইন প্রতিনিধি
ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বকে এক করার ইনফান্তিনোর প্রচেষ্টা সফল হলেও, রাজনৈতিক তিক্ততা মেটানোর উদ্যোগ মঞ্চেই ভেস্তে যায়। নিজের প্রশাসনিক সাফল্য প্রদর্শনের লক্ষ্যে ইনফান্তিনো মঞ্চে ডাকেন প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব এবং ইজ়রায়েলের ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধি শেখ সুলিমানকে।
আগামী বছর ফিফা নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তাঁদের সঙ্গে করমর্দন করতে চান ইনফান্তিনো। সুলিমান হাত বাড়ালেও প্যালেস্টাইন প্রতিনিধি জিবরিল রাজুব সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি ইজ়রায়েলি প্রতিনিধির সঙ্গে এক ফ্রেমে ছবি তুলতেও অস্বীকার করেন তিনি। এই আকস্মিক ঘটনায় অপ্রস্তুত ফিফা সভাপতি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
“গণহত্যার সহযোগীর সঙ্গে করমর্দন অসম্ভব”
কেন তিনি সুলিমানের সঙ্গে হাত মেলালেন না, সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সুসান শালাবি। তিনি রাজুবের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানান:
“ইজ়রায়েলিরা তাদের ফ্যাসিবাদ এবং গণহত্যাকে ধামাচাপা দিতে যাকে প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছে, আমি তাঁর সঙ্গে করমর্দন করতে পারব না। আমাদের দেশ ও মানুষ তাঁদের জন্য চরম যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের সুর নরম করায় ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও, ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের আঁচ খেলার মাঠেও যে প্রবলভাবে বজায় থাকবে, ফিফা কংগ্রেসের এই ঘটনাই তার প্রমাণ। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে আমেরিকার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেল।

