টমাস কাপের সেমিফাইনালে ভারত: চিনা তাইপেইকে উড়িয়ে পদক নিশ্চিত করলেন লক্ষ্য-সাত্ত্বিকরা

টমাস কাপের সেমিফাইনালে ভারত: চিনা তাইপেইকে উড়িয়ে পদক নিশ্চিত করলেন লক্ষ্য-সাত্ত্বিকরা

বিশ্ব ব্যাডমিন্টনের মঞ্চে ফের দাপট দেখাল ভারত। শক্তিশালী চিনা তাইপেইকে ৩-০ ব্যবধানে পর্যুদস্ত করে টমাস কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ভারতীয় পুরুষ দল। এই জয়ের ফলে চলতি প্রতিযোগিতায় ভারতের পদক জয় নিশ্চিত হয়ে গেল। ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নরা আবারও খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।


লক্ষ্যের মহাকাব্যিক লড়াই

দিনের শুরুটা দুর্দান্তভাবে করেন ভারতের তরুণ শাটলার লক্ষ্য সেন। বিশ্বের ৬ নম্বর তারকা চৌ তিয়েন চেনের বিরুদ্ধে এক সময় হারের মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। দুটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের লড়াই শেষে ১৮-২১, ২২-২০, ২১-১৭ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনেন লক্ষ্য। অভিজ্ঞ চেনের বিরুদ্ধে লক্ষ্যের এই জয় ভারতীয় শিবিরে বাড়তি অক্সিজেন জোগায়।

ডাবলসে সাত্ত্বিক-চিরাগ জুটির দাপট

দ্বিতীয় ম্যাচে কোর্টে নেমেছিলেন বিশ্বের ৪ নম্বর ডাবলস জুটি সাত্ত্বিকসাইরাজ রানকিরেড্ডি এবং চিরাগ শেট্টি। তাঁদের প্রতিপক্ষ ছিল চিউ সিয়াং চিয়ে এবং ওয়াং চি-লিন জুটি। ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ভারতীয় জুটি জয়ী হন ২৩-২১, ১৯-২১, ২১-১২ পয়েন্টে। তাঁদের এই জয়ে ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয়ের পথ প্রশস্ত করে ফেলে।


আয়ুষের হাত ধরে শেষ হাসি

ভারতের জয় নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব ছিল ২০ বছরের তরুণ আয়ুষ শেট্টির কাঁধে। বিশ্বমঞ্চে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি অল ইংল্যান্ড জয়ী তথা বিশ্বের ৮ নম্বর তারকা লিন চুন-ই-কে সরাসরি গেমে (২১-১৬, ২১-১৭) হারিয়ে দেন। আক্রমণ ও রক্ষণ— দুই বিভাগেই আয়ুষের অসাধারণ পারফরম্যান্স ভারতকে কাঙ্ক্ষিত ৩-০ ব্যবধানে জয় এনে দেয়।

“এটি কেবল একটি জয় নয়, এমন এক পারফরম্যান্স যা দীর্ঘকাল মনে থেকে যাবে। খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতি আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের শক্তিকে তুলে ধরেছে।” — বিমল কুমার (প্রাক্তন জাতীয় কোচ)


সেমিফাইনালের প্রেক্ষাপট ও ভারতের রেকর্ড

সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হতে পারে ফ্রান্স অথবা জাপান। এই জয়ের ফলে টমাস কাপের ইতিহাসে ভারত নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল। এর আগে:

  • ২০২২: ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনা জিতেছিল।
  • ১৯৫২, ১৯৫৫, ১৯৭৯: ভারত ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল।

সাবেক কোচ বিমল কুমারের মতে, এই দলের জন্য গর্ব করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং বর্তমান পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে যে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত। ৪ মে ফলাফল ঘিরে রাজ্যে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন বিদেশের মাটিতে লক্ষ্য-সাত্ত্বিকদের এই সাফল্য ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে আনন্দের জোয়ার এনে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.