পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার সরকার গঠনের তৎপরতা শুরু করল ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যে দলের নতুন পরিষদীয় দলনেতা তথা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা চূড়ান্ত করতে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন শাহ ও মোহন মাঝি
বিজেপির প্রথা অনুযায়ী, যেকোনো রাজ্যে জয়ের পর বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়। পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই প্রক্রিয়ায় বাড়তি গুরুত্ব আরোপ করেছে দিল্লি।
- প্রধান পর্যবেক্ষক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
- সহকারী পর্যবেক্ষক: ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অমিত শাহকে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত দলের সর্বভারতীয় স্তরের প্রথম সারির নেতাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হলেও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিত থাকা প্রমাণ করে যে বাংলার এই জয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বৈঠকেই নির্ধারিত হবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম
২০৭টি আসনে জিতে এবার বিধানসভায় শাসকের ভূমিকায় বসতে চলেছে পদ্মশিবির। ফলে এই বৈঠকে যে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হবেন, তিনিই হবেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। অমিত শাহ নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সেখানেই নাম চূড়ান্ত করা হবে।
সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে রাখার নেপথ্যেও কৌশল দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেশী রাজ্যে বিজেপির জয়ের কারিগর মোহন মাঝির অভিজ্ঞতাকে বাংলার সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় কাজে লাগাতে চায় দল।
শপথগ্রহণ নিয়ে জল্পনা
নতুন সরকারের শপথগ্রহণ কবে হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে যে, আগামী ৯ মে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। এই বিষয়ে রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বা রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট কিছু জানাননি। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “শপথগ্রহণের তারিখ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই স্থির করবেন। আপাতত পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াটাই অগ্রাধিকার।”
প্রশাসনিক রদবদলের আবহে নয়া সরকারের প্রস্তুতি
ফল প্রকাশের পরদিন থেকেই রাজ্যজুড়ে সাজ সাজ রব। একদিকে যখন বিধানসভা থেকে নিজের দপ্তর গুটিয়ে নিয়েছেন বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তখন নবান্ন দখলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারছে বিজেপি। অমিত শাহের সফরের পরেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, আগামী পাঁচ বছর বাংলার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কার নাম ঘোষণা করবে বিজেপি।

