ঘাসফুল প্রতীকের অধিকার কার? উপনির্বাচনের আগে কমিশনের নজরে নন্দীগ্রাম-রেজিনগর

ঘাসফুল প্রতীকের অধিকার কার? উপনির্বাচনের আগে কমিশনের নজরে নন্দীগ্রাম-রেজিনগর

আসন্ন ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘাসফুল প্রতীক ও দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত শিবিরের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে [cite: নন্দীগ্রাম, রেজিনগর উপনির্বাচন প্রসঙ্গে)। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর ঠিক আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—এই দুই কেন্দ্রেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। তবে এই দুই শিবিরের প্রার্থীদের চূড়ান্ত প্রতীক কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

শনিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দুই শিবিরের বৈঠকের পর রবিবার উভয় পক্ষকেই আলাদা করে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুই শিবিরের কাছে বেশ কিছু নতুন নথি চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশন ফের একপ্রস্ত বৈঠক বা শুনানি করতে পারে। কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসী সুরে জানিয়েছেন, “উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীকেই আমাদের প্রার্থীরাই লড়বেন।”

প্রার্থী ঘোষণা ও রাজনৈতিক সমীকরণ কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগর কেন্দ্রে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে [cite: নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির প্রার্থী করেছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে, রেজিনগর কেন্দ্রে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী]। পেশায় শিক্ষিকা এবং বয়ালের বাসিন্দা সঞ্চিতা, অন্যদিকে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা রবিউল এর আগে তিনবার ওই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের চিঠি পাওয়ার দিনই প্রার্থী ঘোষণা করে ঋতব্রত শিবিরের ওপর একপ্রকারের স্নায়ুর চাপ তৈরি করল কালীঘাট শিবির [cite: কমিশনের চিঠি পাওয়ার দিনই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে ঋতব্রত তৃণমূলের উপর স্নায়ুর চাপ তৈরি করল কালীঘাট তৃণমূল]। সোমবার প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে ঋতব্রত শিবিরও।

এদিকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর ছাড়াও বাম এবং কংগ্রেসও এই দুই আসনে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে [cite: রবিবার কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে সঙ্গে ওই দুই আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাম এবং কংগ্রেসও]। নন্দীগ্রামে সিপিআই প্রার্থী করেছে শান্তি গিরিকে এবং কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান [cite: নন্দীগ্রামে সিপিআই প্রার্থী করেছে শান্তি গিরিকে। কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মিলন প্রধান]। অন্যদিকে, রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের পুত্র গোলাম নবি আজাদ এবং কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহি কাফি লড়ছেন; বামফ্রন্ট প্রার্থী করেছে সৈয়দ আসাদ আলিকে [cite: রেজিনগরে বাবার ছেড়ে দেওয়া আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে লড়ছেন হুমায়ুন কবীরের পুত্র গোলাম নবি আজাদ। সেখানে কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহি কাফি। বামফ্রন্ট প্রার্থী করেছে সৈয়দ আসাদ আলিকে]। তবে এই দুই আসনে এখনও বিজেপি তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

প্রতীক নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক জল্পনা উপনির্বাচনের আগে প্রতীক নিয়ে কমিশন কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে পারে [cite: উপনির্বাচনের আগে প্রতীক নিয়ে কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন কোনো নির্দেশ দিতেই পারে]। যদি তা না হয়, তবে ঘাসফুল প্রতীকটি ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ‘ফ্রিজ’ বা স্থগিত রাখার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। সে ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই অস্থায়ী নাম ও প্রতীক নিয়ে ময়দানে নামতে হতে পারে [cite: উপনির্বাচনে লড়ার সময় দু’পক্ষকেই অস্থায়ী নাম এবং প্রতীক নিতে হবে কমিশনের কাছ থেকে]। তবে সামগ্রিক নথিপত্রের দিক থেকে বর্তমানে কালীঘাট শিবির কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলেই মনে করছেন একাংশ [cite: কমিশনকে নথিপত্র দেওয়ার বিষয়ে ঋতব্রত তৃণমূলের তুলনায় কালীঘাট তৃণমূলের আপাত ভাবে সুবিধা বেশি]।

উল্লেখ্য, আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ অক্টোবর ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.