বয়স প্রায় ৭০ ছুঁইছুঁই। আর মাত্র তিন মাস পরেই জীবনের সত্তর কোঠায় পা দেবেন বলিউডের চিরসবুজ তারকা অনিল কপূর। কিন্তু তাঁর বর্তমান শারীরিক গড়ন ও রূপ দেখে বয়স বোঝার উপায় নেই। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নতুন ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তা দেখে ফের হতভম্ব হয়ে গিয়েছেন অনুরাগীরা। সকলের একটাই প্রশ্ন, কী খান, সারাদিন কী রুটিন মেনে চলেন এবং তাঁর চিরযৌবনের আসল রহস্যটাই বা কী?
অনুরাগীদের মনে জাগা এই প্রশ্ন সরাসরি রাখা হয়েছিল অভিনেতার সামনে। জবাবে অনিল কপূর জানান, বার্ধক্য মূলত শুরু হয় মন থেকে, আর তারুণ্যের আসল শিকড়ও লুকিয়ে রয়েছে মনের অন্দরেই। তাঁর তারুণ্যের নেপথ্যে বিশেষ কোনো জাদু মন্ত্র নেই। অবশ্যই ডায়েট, ডাম্বেল ও ট্রেডমিলের ভূমিকা রয়েছে, তবে তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল ইতিবাচক মানসিকতা। অভিনেতার কথায়, ‘‘ইতিবাচক মানসিকতা, নিজেকে নিয়ে আনন্দে থাকা এবং সুখে থাকা সবচেয়ে বেশি জরুরি।’’
খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও চরম সচেতন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর মতে, শরীরের সমস্ত কিছুর শুরু হয় অন্ত্র বা পেট থেকে। মুখে কী খাবার তুলছেন, সে বিষয়ে সবসময় খেয়াল রাখা দরকার। খাওয়ার কাজটা কেবল পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং শরীর প্রয়োজনীয় স্ট্যামিনা এবং শক্তি পায় খাবার থেকেই। পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সবসময় সাদামাঠা এবং স্বাস্থ্যকর খাবারই পছন্দ করেন অনিল কপূর। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক আহার শরীর ও মন— দুই-ই চনমনে রাখে।
খাওয়াদাওয়া ও মানসিকতার পাশাপাশি এই বয়সেও সপ্তাহে ৬ দিন নিয়মিত শারীরচর্চা করেন অনিল। জিমে ডাম্বেল নিয়ে শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করার পাশাপাশি ট্রেডমিলে দৌড়ানো বা খোলা রাস্তায় রানিং— সবেতেই তিনি সমান পারদর্শী। ভারোত্তোলনের ক্ষেত্রে সহকর্মীদের দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। অন্য অভিনেতারা যত কেজির ওজন তোলেন, তাঁকেও ঠিক তত কেজির ওজনই তুলতে দেখা যায়। কার্ডিয়োপ্রেমী হওয়া সত্ত্বেও ভারোত্তোলন ও রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিং নিয়ে তাঁর ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। ইনস্টাগ্রামের পাতা ঘাঁটলেই ওজন তোলা, লেগ কার্লস কিংবা ওজন নিয়ে লাঞ্জেস করার নানা মুহূর্ত চোখে পড়ে।
অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনযাপন করেন অনিল কপূর। একবার তাঁর কন্যা সোনম কপূর জানিয়েছিলেন, বাবা কোনোভাবেই নিজের রুটিন থেকে এক চুল এদিক-ওদিক হতে চান না। মদ্যপান বা ধূমপানের মতো বদভ্যাস তো তাঁর নেই-ই, বরং জীবনযাত্রা অত্যন্ত কড়া নিয়মে বাঁধা। তাঁর এই সুশৃঙ্খল জীবনের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে স্ত্রী সুনীতা আহুজার। মাঝেসাধ্যে নিয়মভঙ্গের ইচ্ছে জাগলেও কড়া স্ত্রীর অনুশাসনের কারণে তা আর হয়ে ওঠে না। সুষম খাদ্যাভ্যাস, কঠোর শারীরচর্চা, পরিবার এবং সবসময় আনন্দে থাকাই অনিল কপূরের ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি।

