এক বছরের মধ্যে সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব! উন্নয়নের কাজে অগ্রাধিকার উত্তরবঙ্গকে! শিলিগুড়িতে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এক বছরের মধ্যে সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব! উন্নয়নের কাজে অগ্রাধিকার উত্তরবঙ্গকে! শিলিগুড়িতে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে একগুচ্ছ তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার শিলিগুড়িতে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্বাচনী সংকল্পপত্রে রাজ্যবাসীকে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে পূরণ করবে তাঁর সরকার। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন, নতুন সরকারের সামগ্রিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে।

বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিপুল জনসমর্থন পেয়ে এসেছে বিজেপি। ফলে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক— উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

‘উত্তরবঙ্গ বিজেপির ভদ্রাসন’, প্রতিশ্রুতি পূরণে সময়সীমা বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

বুধবার উত্তরকন্যায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পূর্বে শিলিগুড়ির দলীয় কার্যালয়ে বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উত্তরবঙ্গের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন:

“উত্তরবঙ্গ হলো বিজেপির ভদ্রাসন। বিগত ১৭ বছর ধরে এখানকার মানুষ আমাদের পাশে থেকেছেন, তাই এই সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে উত্তরবঙ্গ সবসময় অগ্রাধিকার পাবে। আমরা নির্বাচনী সংকল্পপত্রে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পূরণ করব। কিছু ক্ষেত্রে তার সুফল আপনারা পেতে শুরু করেছেন, আগামী জুন মাস থেকেও আরও কিছু সুফল পাবেন। ক্রমান্বয়ে আগামী তিন মাস, ছয় মাস এবং সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে আমরা মানুষের কাছে দেওয়া সমস্ত কথা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করব।”

উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী জুলাই মাসে তিনি আবারও উত্তরবঙ্গ সফরে আসবেন। তার পূর্বে এলাকার কী কী উন্নয়ন প্রয়োজন, সেই সংক্রান্ত সমস্ত লিখিত প্রস্তাব প্রস্তুত রাখার জন্য তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন। জুলাইয়ের সফরে এসে তিনি নিজে সেই প্রস্তাবগুলি সংগ্রহ করবেন এবং সরকারি নিয়মের মধ্যে যেগুলি করা সম্ভব, তা দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ‘ব্যবস্থার পরিবর্তন’-এর ডাক

দলের সাধারণ কর্মীদের মতামত সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছানোর জন্য একটি অভিনব পন্থার কথা জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নির্দেশ দেন, “মুখ্যমন্ত্রীর জন্য কোনো পরামর্শ থাকলে আমাদের পার্টির কর্মীরা তা নিজেদের জেলা সভাপতিদের হোয়াট্‌সঅ্যাপে ফরোয়ার্ড করবেন এবং নিচে নিজেদের মোবাইল নম্বর লিখে দেবেন। জেলা সভাপতিরা তা সরাসরি আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন।”

পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত দিনে পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ তৈরি করে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছিল।” সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে তাঁর সরকার রাজ্যে প্রকৃত অর্থেই সার্বিক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি দাবি করেন।

শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “আমরা চাই শুধু ঝান্ডা, দল, পথ বা ব্যক্তির পরিবর্তন নয়; আমরা চাই ব্যবস্থার পরিবর্তন হোক। গত দুই সপ্তাহে ইতিমধ্যেই অনেক ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হয়েছে। আমরা এমন এক ব্যবস্থা গড়তে চাই যেখানে কোনো কাটমানি, সিন্ডিকেট-রাজ কিংবা মাফিয়াগিরি থাকবে না। এটাই আমাদের আগামী দিনের স্বপ্ন।” একই সাথে রাজ্যে কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.