ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (IPL) চলতি মরসুম শেষ হতেই কি চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) সঙ্গে দীর্ঘ দেড় দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি? ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘থালা’-র (চেন্নাই সমর্থকদের কাছে ধোনি এই নামেই পরিচিত) চরম দূরত্ব তৈরি হওয়ার জল্পনায় এখন তোলপাড় ক্রিকেট মহল। চলতি আইপিএলে এখনও পর্যন্ত একটি ম্যাচও খেলেননি ধোনি। যদিও দলের পক্ষ থেকে বারবার তাঁর চোটের কথা বলা হয়েছে, তবে একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসল কারণ চোট নয়, বরং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি।
লিগ পর্বে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে আহমেদাবাদে চেন্নাইয়ের শেষ ম্যাচ রয়েছে। তবে সেই ম্যাচেও ধোনির খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সিএসকে শিবিরের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছেন, “ধোনি এবং চেন্নাই কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালের পর ধোনিকে আর হলুদ জার্সি গায়ে দেখার সম্ভাবনা কার্যত নেই।”
ফিটনেস নয়, মতপার্থক্যই মূল কারণ!
চেন্নাই শিবিরের পক্ষ থেকে ধোনির ফিটনেস নিয়ে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ সত্য নয় বলে জানা গেছে। প্রতিযোগিতার শুরুতে তাঁর পায়ের পেশিতে সামান্য সমস্যা থাকলেও, বর্তমানে ধোনি সম্পূর্ণ ফিট। দলের ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে তিনি নিজেই প্রতিযোগিতার মাঝপথে খেলতে রাজি হননি।
আসল বিরোধ বেঁধেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের কিছু সিদ্ধান্ত ও আচরণ নিয়ে। বিশেষ করে আগামী দিনের পরিকল্পনা এবং দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়ার পদ্ধতি একেবারেই মেনে নিতে পারেননি ধোনি। ফ্র্যাঞ্চাইজির এই ধরণের আচরণে তিনি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।
অবহেলা ও গুরুত্বহীনতা: গত দু’বছরের ক্ষোভ
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত দুই বছর ধরে ধোনির সঙ্গে কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক পর্যায়ক্রমে খারাপ হয়েছে। ধোনিকে এখন আর আগের মতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না এবং দল পরিচালনায় তাঁর কোনো পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি রবীন্দ্র জাডেজাকে বাদ দেওয়া কিংবা সঞ্জু স্যামসনকে দলে নেওয়ার মতো বড় সিদ্ধান্তের বিষয়েও ধোনিকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।
কর্তৃপক্ষের এই আচরণে ধোনি নিজেকে ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করছেন। গত নিলামের পর থেকেই তিনি নিজেকে দল থেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছেন। সিএসকে ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন:
“এ বছর ধোনিকে কোনো গুরুত্বই দিচ্ছেন না চেন্নাই কর্তৃপক্ষ। একপ্রকার অবহেলাই করা হচ্ছে, যা মাহি মেনে নিতে পারছেন না। দলের সঙ্গে পুরো মরসুমে থাকলেও তিনি আগের মতো সম্মান পাচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষের পুরো নজর এখন তরুণ ক্রিকেটারদের ওপর, যাঁদের নিয়ে তাঁরা ভবিষ্যতের দল গড়তে চাইছেন। সেই ভাবনায় স্বাভাবিকভাবেই ধোনি আর নেই।”
অন্তরালে থেকেই বিদায়ের প্রস্তুতি
চেন্নাই সুপার কিংসের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মরসুমে একটি ম্যাচও খেললেন না মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। এমনকি দলের কিছু ম্যাচ চলাকালীন তিনি মাঠেও যাননি, হোটেলের ঘরেই কাটানো পছন্দ করেছেন। সব মিলিয়ে, ফ্র্যাঞ্চাইজির আচরণে বীতশ্রদ্ধ হয়ে এবার অন্তরালে থেকেই হলুদ জার্সি তথা আইপিএল কেরিয়ারকে চিরতরে বিদায় জানানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ভারতের এই প্রাক্তন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

