‘ঘুষপেটিয়ামুক্ত বাংলা গড়তে হবে’, আরামবাগের সভা থেকে হুঙ্কার অমিত শাহের

‘ঘুষপেটিয়ামুক্ত বাংলা গড়তে হবে’, আরামবাগের সভা থেকে হুঙ্কার অমিত শাহের

আরামবাগ ও পুড়শুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবারের এই সভা থেকে তিনি রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ‘ঘুষপেটিয়ামুক্ত’ বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

আলু চাষি ও কৃষি নিয়ে প্রতিশ্রুতি: পশ্চিমবঙ্গকে আলুর রাজধানী হিসেবে অভিহিত করে অমিত শাহ বলেন, রাজ্য সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে এখানকার আলু চাষিরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাইরের রাজ্যে আলু পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে চাষিরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন। তাঁর প্রতিশ্রুতি, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে আলু বাইরের রাজ্যে পাঠানোর প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। পাশাপাশি, রাজ্যে আলু বীজ উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে আলুর বীজের যে আকাশছোঁয়া দাম, তা অর্ধেক হয়ে যাবে।

রাজনৈতিক আক্রমণ: তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের সময় এসেছে। আগামী ৫ মে-র পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর ভাইপোর ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, এতদিন ধরে যাঁরা বিজেপি কর্মীদের ওপর সন্ত্রাস চালিয়েছেন, ৫ তারিখের পর তাঁদের পাতাল থেকে খুঁজে বের করা হবে। এছাড়া, রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি কটাক্ষ করেন।

নারী নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু: রাজ্যে নারী সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে এনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় সবচেয়ে শোচনীয়। তিনি সন্দেশখালি, কসবা ল’ কলেজ এবং আরজি করের মতো ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল নেতাদের অত্যাচারে রাজ্যের মা-বোনেরা নিরাপদ নন।

জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। কিন্তু তৃণমূল ও কংগ্রেস সেই সন্ত্রাসবাদীদের মদত দিচ্ছে এবং তাদের সঙ্গে আপস করছে।”

নির্বাচনী প্রচারের শেষলগ্নে অমিত শাহের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজ্যের কৃষি সমস্যা, অনুপ্রবেশ এবং নারী নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলিকে সামনে রেখে বিজেপি যে সরকার বিরোধী হাওয়াকে আরও জোরালো করতে চাইছে, তা স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.