জঙ্গলপথে পাহারায় ‘ঐরাবত’
পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বন্যপ্রাণের আতঙ্ক কাটিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানো ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বনদপ্তর সূত্রে খবর, জেলায় মোট ১১টি এলিফ্যান্ট করিডোর বা হাতি চলাচলের রাস্তা রয়েছে। সোমবার মেদিনীপুর গ্রামীণের গুড়গুড়িপাল ও নয়াগ্রামের মতো জঙ্গলঘেরা এলাকায় বনদপ্তরের বিশেষ গাড়ি ‘ঐরাবত’ হুটার বাজিয়ে পরীক্ষার্থীদের এসকর্ট করে নিয়ে যায়। বনকর্মীরা রাস্তার দু’ধারে সতর্ক থেকে বন্যপ্রাণের হামলা থেকে সুরক্ষিতভাবে পড়ুয়াদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন।
পুলিশের শুভেচ্ছা ও বিনা ভাড়ায় বাস পরিষেবা
আনন্দপুর থানার সাহসপুর ঘোষাল হাইস্কুলের সামনে এক সৌজন্যমূলক চিত্র দেখা যায়। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা আগত পরীক্ষার্থীদের হাতে ফুল ও কলম তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অন্যদিকে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জেলার বাস পরিবহন সংস্থাগুলি ছাত্রছাত্রীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম দিন থেকেই পরীক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে বেসরকারি বাসগুলি।
জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি
মেদিনীপুর শহরে বিধায়ক সুজয় হাজরা ও পুরপ্রধান সৌমেন খানের উদ্যোগে পরীক্ষার্থীদের পানীয় জল, কলম ও ফুল দেওয়া হয়। তবে উৎসবের আমেজ থাকলেও প্রশাসনিক নজরদারি ছিল তুঙ্গে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) জানিয়েছেন:
- প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের মূল প্রবেশদ্বার ও স্ট্রংরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
- কোনো পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করলে তার সব পরীক্ষা বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
- গরমে কষ্ট লাঘব করতে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো ও পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এক নজরে এ বছরের পরিসংখ্যান
পর্ষদ নিযুক্ত জেলা আহ্বায়ক সুভাষ হাজরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় জেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।
- গত বছরের পরীক্ষার্থী: ৫৩,১৯৬ জন।
- এ বছরের রেজিস্ট্রেশন: ৫৮,৭৯০ জন।
- চূড়ান্ত পরীক্ষার্থী: প্রায় ৫৬ হাজার।
- বিশেষ উদ্যোগ: এমনকি পরীক্ষার আগের দিন রবিবারও জেলার দুই ছাত্রীকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে।

