মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল বরগী বাঁধের জলাশয়। ৩১ জন পর্যটক নিয়ে একটি টুরিস্ট ক্রুজ ডুবে যাওয়ায় অন্তত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৮ জন। উত্তাল নর্মদার বুকে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে ঝড় ও ওভারলোডিং
স্থানীয় সূত্র ও জি নিউজ (Zee News) মারফত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, নর্মদা নদীর ব্যাকওয়াটারে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র খামারিয়া দ্বীপের অদূরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিকেলের দিকে আচমকাই আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায় এবং প্রবল ঝড়ের মুখে পড়ে ‘বিমিনি-টপ’ বোটটি।
প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, বোটটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী (ওভারলোডিং) তোলা হয়েছিল। ঝড়ের কবলে পড়ে টাল সামলাতে না পেরে উত্তাল জলরাশিতে ভারসাম্য হারিয়ে সেটি উল্টে যায়।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
জবলপুরের জেলা কালেক্টর রাঘবেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
- উদ্ধার: এ পর্যন্ত ১৫ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
- নিখোঁজ: আনুমানিক ১৮ জন এখনও নিখোঁজ। এসডিআরএফ (SDRF) এবং ডুবুরিরা খামারিয়া দ্বীপের আশেপাশে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
- প্রতিকূলতা: সন্ধ্যার অন্ধকার এবং জলাশয়ের বিশাল বিস্তৃতির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
“বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বয়ান এবং নথি মিলিয়ে নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক,” জানিয়েছেন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
পর্যটন কেন্দ্রে শোকের ছায়া
মধ্যপ্রদেশের জল-পর্যটনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র এই বরগী বাঁধ। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় ক্রুজ ভ্রমণ পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আকাশ অন্ধকার হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক মিনিটের ঝড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময়টুকুও পাননি নাবিক বা যাত্রীরা।
ফিরে এল মথুরার স্মৃতি
এই ঘটনা গত এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশের মথুরায় ঘটা নৌকাডুবির স্মৃতি উসকে দিল। মথুরার যমুনা নদীতে লাইফ জ্যাকেটহীন অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকাডুবিতে ১০-১৬ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। জবলপুরের এই দুর্ঘটনা আবারও জলপথে পর্যটনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
প্রশাসনের তরফে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সমস্ত রকম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

