আইপিএলে পঞ্জাব কিংসের হয়ে মাঠে নামলেই ধারাভাষ্যকারদের মুখে বারবার উঠে আসে একটি বিশেষ শব্দ— ‘সরপঞ্চ’। ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়ার দেওয়া এই ডাকনাম এখন পঞ্জাব দল ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। তবে পঞ্জাবের এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার শ্রেয়স আয়ার জানিয়েছেন, শুরুতে তিনি এই শব্দের অর্থই জানতেন না। অর্থের মর্মার্থ জানার পর থেকেই তাঁর ক্রিকেটীয় জীবনে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে।
‘সরপঞ্চ’ নামের নেপথ্য কাহিনী
‘জিয়োস্টার’-এ দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শ্রেয়স আয়ার বলেন, “প্রথমদিকে আমি জানতামই না আমাকে কেন ‘সরপঞ্চ’ ডাকা হচ্ছে। পরে সতীর্থদের কাছ থেকে জানতে পারি, এর অর্থ হলো কোনো গোষ্ঠী, পরিবার বা জেলার প্রধান। এই অর্থ জানার পর থেকে আমার মানসিকতা বদলে গেছে। এখন মনে হয়, এই নামটা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।”
সাফল্যের নেপথ্যে বর্তমানের ওপর গুরুত্ব
চলতি আইপিএলে অপরাজেয় পঞ্জাব কিংসের সাফল্যের অন্যতম কারিগর শ্রেয়স। তিনি জানিয়েছেন, সাফল্যের জন্য কোনো গোপন জাদুমন্ত্র নেই, বরং বর্তমান মুহূর্তকে নিয়ন্ত্রণ করাই মূল চাবিকাঠি। শ্রেয়সের কথায়, “ট্রফি জেতাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু তার জন্য খুব বেশি ভবিষ্যতের দিকে তাকালে চলবে না, আবার অতীত নিয়ে পড়ে থাকলেও লাভ নেই। আমি সতীর্থদের সবসময় বলি, মাঠে নেমে নিজেদের মতো করে খেলো। প্রতিপক্ষ কারা সেটা বড় কথা নয়, প্রতিদিন নিজেদের উন্নতি করা এবং সেরাটা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
গত বছরের কলকাতা জয়ের স্মৃতি
গত বছর কেকেআর-এর বিরুদ্ধে সেই স্মরণীয় জয়ের কথা এখনও উজ্জ্বল শ্রেয়সের স্মৃতিতে। পঞ্জাবের ১১১ রানের জবাবে কলকাতা নাইট রাইডার্স যখন মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল, সেই ম্যাচের কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, “ওই ম্যাচে দু’টি উইকেট দ্রুত পড়ার পর ওদের একটি ভালো জুটি গড়ে উঠেছিল। তখন আমার লক্ষ্য ছিল ব্যাটারদের সামনে ফিল্ডার রেখে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা বাধ্য হয়ে খারাপ শট খেলে। সেই পরিকল্পনা কাজে দিয়েছিল।”
লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচের আগে শ্রেয়সের এই আত্মবিশ্বাস যে পঞ্জাব শিবিরকে মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে রাখছে, তা বলাই বাহুল্য। পঞ্জাবের ‘সরপঞ্চ’ এখন কেবল একটি নাম নয়, বরং দলের নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

