পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সপ্তম বেতন কমিশনের জন্য বিশেষ সরকারি ওয়েবসাইট চালু করল রাজ্য সরকার। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই কমিশনের কাছে নিজেদের দাবি, বক্তব্য, মতামত এবং বিভিন্ন প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তরা। কমিশনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই অনলাইনে মেমোরান্ডাম ও পরামর্শ জমা দেওয়ার মডিউলটি কার্যকর করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে এই প্রস্তাবগুলি জমা দেওয়া যাবে।
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত জমার নিয়ম ও সময়সীমা তথ্যপ্রচার, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, মেমোরান্ডাম গ্রহণ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের মতো একাধিক উদ্দেশ্য নিয়ে এই পৃথক ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিশন নির্দিষ্ট মডিউল ব্যবহার করে বক্তব্য জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন, অ্যাসোসিয়েশন এবং ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে অর্থ দফতরের জারি করা রেজ়োলিউশনের অ্যানেক্সারে অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলি এই পোর্টালের মাধ্যমে বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, অবসরকালীন সুবিধা ও পরিষেবা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে তাদের মতামত পেশ করতে পারবে। শুধু সংগঠন বা সংস্থাই নয়, কোনো একক কর্মী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীও সরাসরি নিজের পরামর্শ ও প্রস্তাব কমিশনের কাছে জমা দিতে পারবেন। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এই অনলাইন মডিউলটি খোলা থাকবে।
অনলাইন জমা বাধ্যতামূলক, গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শুধুমাত্র এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত মেমোরান্ডাম ও পরামর্শগুলিই বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কাগজের হার্ড কপি, পিডিএফ কিংবা ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানো কোনো বক্তব্য বা প্রস্তাব কমিশন গ্রহণ বা বিবেচনা করবে না। দাবিদাওয়া জানাতে ইচ্ছুকদের তাই আবশ্যই অনলাইন মডিউলের সাহায্য নিতে হবে।
চলতি বছরের ২২ জুলাই অর্থ দফতরের রেজ়োলিউশনের মাধ্যমেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল। এর পর এবার মতামত সংগ্রহের এই ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালুর ফলে বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব সরাসরি ও স্বচ্ছভাবে কমিশনের কাছে পৌঁছানো সহজতর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের এই মতামত নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে আরও তথ্যভিত্তিক ও পরিপক্ব করে তুলবে। অর্থ দফতরের এক আধিকারিকের মতে, সরকার কর্মচারীদের মনোভাব সরাসরি জানতে আগ্রহী, তাই ব্যক্তিগতভাবেও মতামত জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
কর্মী মহলের প্রতিক্রিয়া ওয়েবসাইট চালু হওয়া প্রসঙ্গে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, “সরকার যখন সপ্তম বেতন কমিশনের নোটিফিকেশন দিয়েছিল, তখনই বলেছিল একটা ওয়েবসাইট খুলবে, যার মাধ্যমে সংগঠন, সংস্থা বা দফতরগুলি নিজেদের বক্তব্য বা দাবিদাওয়া জানাতে পারবে। সেই ওয়েবসাইট খুলতে একটু দেরি হল। দেরিতে হলেও কর্মীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন এই ভেবে যে, আমরা আমাদের নিজেদের দাবিদাওয়া জানাতে পারব এবং সময়মতো কর্তৃপক্ষর সঙ্গে আলোচনাও করতে পারব।” নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত সংগঠন ও কর্মীরা যাতে পোর্টালে নিজেদের প্রস্তাব নথিভুক্ত করেন, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

