বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেলে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় পন্টুনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ পন্টুনটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এই ঘটনায় বাসে থাকা ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী পদ্মানদীতে তলিয়ে যান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নদী থেকে দুই মহিলার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল সোয়া ৫টা নাগাদ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঢাকাগামী বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। সেই সময় হঠাৎ একটি সজোরে ধাক্কায় পন্টুনটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়। কয়েকজন যাত্রী সাঁতার কেটে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও বাসের ভেতরে আটকা পড়েন অধিকাংশ যাত্রী।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে নদীর প্রায় ৩০ থেকে ৬০ ফুট গভীরে পন্টুনের নিচে আটকে রয়েছে। উদ্ধারকাজে অংশ নিতে রাজবাড়ী, ঢাকা এবং ফরিদপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনের ভূমিকা
দুর্ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ফেরিঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঝোড়ো হাওয়া ও নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা, সময় গড়ানোর সাথে সাথে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা এখন নদীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন।

