প্রত্যাশিত জয় দিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করল ভারত। বুধবার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসকে ১৭ রানে হারিয়ে টানা ১২টি ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়ল সূর্যকুমার যাদবের দল। তবে সুপার এইট পর্বের আগে ভারতের জয়ের দিনেও কাঁটা হয়ে বিঁধল ওপেনার অভিষেক শর্মার টানা ব্যর্থতা এবং ফিল্ডিংয়ের সাধারণ কিছু ভুল।
ভারতের ব্যাটিং: দুবের ঝোড়ো অর্ধশতরান
এ দিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৩ রান তোলে ভারত। তবে শুরুটা মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না।
- অভিষেকের ব্যর্থতা: দলের অন্যতম ওপেনার অভিষেক শর্মা মাত্র ৩ বল ক্রিজে থেকে শূন্য রানে আউট হন। উল্লেখ্য, শেষ সাতটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইনিংসের মধ্যে পাঁচটিতেই খাতা খুলতে ব্যর্থ হলেন তিনি, যা সুপার এইটের আগে টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
- মিডল অর্ডার: পাকিস্তান ম্যাচের নায়ক ঈশান কিশনও (১৮) আজ বড় রান পাননি। তিলক বর্মা (৩১) এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (৩৪) ইনিংস সামাল দিলেও তাঁদের ব্যাটিংয়ে আগ্রাসনের অভাব স্পষ্ট ছিল।
- ত্রাতা শিবম দুবে: শেষ দিকে বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করেন শিবম দুবে। মাত্র ৩১ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যাতে ছিল ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন হার্ডিক পাণ্ড্য (৩০)। রিঙ্কু সিং ৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
ডাচ বোলারদের মধ্যে লোগান ভ্যান বিক ৩টি এবং আরিয়ান দত্ত ২টি উইকেট দখল করেন।
নেদারল্যান্ডসের রান তাড়া ও ভারতীয় বোলিং
১৯৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডস লড়াই করলেও জেতার মতো আগ্রাসন দেখাতে পারেনি। ডাচ ব্যাটাররা ঝুঁকি নেওয়ার বদলে সাবধানী ব্যাটিংয়েই বেশি মনোযোগী ছিলেন।
- ডাচ ইনিংস: ওপেনার ম্যাক্স ও ডাউড (২০) এবং মাইকেল লেভিট (২৪) ধীরগতিতে শুরু করেন। মাঝপথে বাস ডি লিড (৩৩) এবং শেষে নোয়া ক্রোয়েস (২৫*) কিছুটা চেষ্টা করলেও ৭ উইকেটে ১৭৬ রানেই থামে তাদের ইনিংস।
- বোলিং বিশ্লেষণ: ভারতের হয়ে বল হাতে ভেলকি দেখান বরুণ চক্রবর্তী। তিনি মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। অলরাউন্ডার শিবম দুবে ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও সফল হন (২ উইকেট)। একটি করে উইকেট পান জসপ্রীত বুমরাহ ও হার্ডিক পাণ্ড্য।
সুপার এইটের আগে আশঙ্কার মেঘ
ম্যাচ জিতলেও ভারতের ফিল্ডিং এবং কৌশলগত কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- ক্যাচ মিস: সূর্যকুমার এবং তিলক বর্মার মতো নির্ভরযোগ্য ফিল্ডাররা আজ ক্যাচ ফেলেছেন।
- ফিল্ডিংয়ে ভুল বোঝাবুঝি: খুচরো রান বাঁচানোর ক্ষেত্রে রিঙ্কু সিংয়ের অতি-সক্রিয়তা ফিল্ডিংয়ে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
- ওপেনিং সমস্যা: টপ অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভারতকে বিপদে ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে গ্রুপের সবকটি ম্যাচ জিতে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে যাচ্ছে ভারত। কোচ গৌতম গম্ভীরের ‘আগ্রাসী ক্রিকেট’-এর মন্ত্র মাঠে কতটা প্রতিফলিত হয়, এখন সেটাই দেখার।

