রাজনীতি নয়, কেবলই এক ‘অনন্য ভক্ত’ হিসেবে বুধবার ইসকনের সদর দফতর মায়াপুরে ঘণ্টা দেড়েকের এক আধ্যাত্মিক সফরে এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শ্রীলভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১৫২তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ভারত তথা বিশ্বের দরবারে সনাতন ধর্মের জয়গান গাইলেন। নিজের বক্তব্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকেও উপস্থিত ভক্তদের ‘হরেকৃষ্ণ’ অভিবাদন জানান তিনি।
আধ্যাত্মিক আবহে বিশ্বজনীন উপস্থিতি
বুধবার দুপুরে কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে মায়াপুর পৌঁছান অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব আগেই সড়কপথে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে দেশীয় ভক্তদের পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকা ও রাশিয়ার অগণিত বিদেশি ভক্তের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কপালে তিলক এবং ধুতি-পাঞ্জাবি বা শাড়ি পরিহিত এই বিদেশি অনুরাগীগণ হিন্দিতে দেওয়া শাহের ভাষণের প্রতিটি শব্দ বুঝতে না পারলেও, ভারতের আধ্যাত্মিক দর্শন অনুভব করতে সচেষ্ট ছিলেন। রাশিয়ার এক ভক্তের কথায়, “আমরা হয়তো সব শব্দ বুঝছি না, কিন্তু তাঁর উপস্থিতি এবং ভারতের আধ্যাত্মিক শক্তির টান অনুভব করতে পারছি।”
ভাষণের মূল দিকসমূহ
২৪ মিনিটের এই ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তাঁর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলি হলো:
- প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: শাহ জানান, সকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর কথা হয়েছে। মায়াপুর আসার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নিজে সকলকে ‘হরেকৃষ্ণ’ জানিয়েছেন।
- মহাপ্রভুর আদর্শ: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সমাজ সংস্কার এবং ভক্তি আন্দোলনের মাহাত্ম্য তুলে ধরেন তিনি।
- মতুয়া সমাজের উল্লেখ: সমাজকল্যাণে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের অবদানের কথা স্মরণ করে মতুয়া সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শাহ।
- বিকশিত ভারত: তিনি বলেন, “এটি ভগবান নৃসিংহের জাগ্রত স্থান। তাঁর কৃপায় ২০৪৭ সালের মধ্যে আমরা ‘বিকশিত ভারত’ গঠন এবং সারা বিশ্বে সনাতন ধর্মের বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হব।”
সফরের তাৎপর্য ও পর্দার আড়ালের আলোচনা
ইসকন কর্তৃপক্ষের মতে, মায়াপুর একটি বিশ্বজনীন ক্ষেত্র যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’র ছবিটিকে আরও স্পষ্ট করেছে। মায়াপুরের মঞ্চে রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রাখলেও, সফরসঙ্গী বিজেপি নেতাদের নিয়ে হেলিকপ্টারে যাতায়াতের সময় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক আলোচনা সেরেছেন শাহ—এমনটাই দাবি দলীয় সূত্রের। তবে সেই আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে উপস্থিত নেতারা সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেননি।
| সফরের বিবরণ | তথ্য |
| স্থিতিকাল | প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
| প্রধান উপলক্ষ | ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের ১৫২তম জন্মজয়ন্তী |
| সঙ্গী | শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, ভূপেন্দ্র যাদব |
| মূল বার্তা | আধ্যাত্মিকতা, সমাজ সংস্কার ও ২০৪৭-এর লক্ষ্য |
অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে হেলিকপ্টারেই ফের কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

