আম্পায়ারিং জীবনে সচিন তেন্ডুলকরের বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য ক্রিকেট ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে আছেন স্টিভ বাকনার। বিশেষ করে ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে তিনি ছিলেন এক আতঙ্কের নাম। অবশেষে প্রায় ২২ বছর পর, ২০০৪ সালের গাব্বা টেস্টে সচিনকে দেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্তের জন্য প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ক্ষমা চাইলেন ৭৯ বছর বয়সি এই প্রাক্তন আম্পায়ার।
গাব্বার সেই রাতারাতি ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত
২০০৩-০৪ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ব্রিসবেন টেস্টের কথা। অসি পেসার জেসন গিলেস্পির একটি ইন-সুইং বল খেলার চেষ্টা না করে ছেড়ে দিয়েছিলেন সচিন। বলটি তাঁর প্যাডের অনেকটা উঁচুতে লাগলেও এলবিডব্লিউ-এর আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল তুলে দেন বাকনার। রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গিয়েছিল, বল নিশ্চিতভাবে স্টাম্পের উপর দিয়ে যেত। সচিন মাত্র শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফিরতে বাধ্য হন। সেই সময় ডিআরএস (DRS) প্রযুক্তি না থাকায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত।
সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বাকনার বলেন:
“আমি জানি সে দিন সচিনকে ভুল আউট দিয়েছিলাম। আমি স্বীকার করছি ওটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল এবং তার জন্য ক্ষমাও চাইছি। কিন্তু মানুষ হিসেবে ভুল হতেই পারে। ওই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে আর কত আলোচনা হবে? জীবন তো এগিয়ে চলে।”
বাকনার বনাম সচিন: বিতর্কের দীর্ঘ তালিকা
সচিনকে ভুল আউট দেওয়ার নজির বাকনারের ক্ষেত্রে এই প্রথম নয়। এর আগেও পাকিস্তানের আব্দুল রজ্জাকের বলে সচিনকে ক্যাচ আউট দিয়েছিলেন তিনি, যেখানে রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাটের ধারেকাছেও ছিল না। কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার টনি গ্রেগ বাকনারের সেই সিদ্ধান্তকে ‘জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
বারবার এমন অবিচারের শিকার হয়ে একবার বিরক্ত সচিন মন্তব্য করেছিলেন, “আমি যখন ব্যাট করতে নামব, তখন ওঁকে (বাকনার) বক্সিংয়ের দস্তানা পরিয়ে দিন, যাতে উনি আঙুল তুলতে না পারেন।”
ক্রিকেট বিশ্বে প্রতিক্রিয়া
তৎকালীন সময়ে প্রযুক্তির অভাব কীভাবে একজন ব্যাটারের কেরিয়ারে প্রভাব ফেলত, বাকনারের এই স্বীকারোক্তি তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাকনারের এই ক্ষমা প্রার্থনা সচিনের সেই অন্যায্য আউটের ক্ষত হয়তো পুরোপুরি মুছবে না, তবে এটি খেলাধুলার ইতিহাসে সত্যের এক দেরিতে আসা বিজয় হিসেবেই চিহ্নিত থাকবে।

