যন্তর মন্তর-কাণ্ডে অবশেষে জেলমুক্তি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার

যন্তর মন্তর-কাণ্ডে অবশেষে জেলমুক্তি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার

দিল্লির যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই শীর্ষনেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা অবশেষে জেলমুক্ত হলেন। বুধবার দিল্লির স্পেশ্যাল এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের হাজির করানো হলে সওয়াল-জবাবের পর দু’জনকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। এর আগে তাঁরা তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন।

যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সেখানে আন্দোলন কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই গত ১৩ অক্টোবর লোহার গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন সৌরভ, রাঙ্কারা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সিজেপির অন্যতম নেতা অজিঙ্ক শিন্দে-সহ আরও ১১ জন। পুলিশ সকলকে আটক করলেও পরে শিন্দে-সহ বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় সৌরভ ও রাঙ্কাকে।

১৪ অক্টোবর স্পেশ্যাল এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হলে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিহাড় জেলেই ছিলেন দুই নেতা। পাঁচ দিন পর ফের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হলে তাঁদের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বুধবার সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবার আদালতে হাজির করানো হয় তাঁদের। সওয়াল-জবাব শেষে দু’জনকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট।

এদিকে, জেল হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিজেপি। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ প্রশ্ন তোলেন, যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরেও কেন সেখানে প্রবেশ করেছিলেন সিজেপি নেতারা? তাঁদের আচরণের জন্য ভর্ৎসনাও করেন তিনি।

বিচারপতি অন্য কয়েকটি দেশে ছাত্রবিক্ষোভের পরবর্তী পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বলেন, কী ভাবে আন্দোলন থেকে অশান্তি ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, তা বিবেচনা করা জরুরি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, বিক্ষোভের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়ার উদ্দেশ্য শুধু আন্দোলনকারীদের আটকানো নয়, বরং তাঁদের সঙ্গে অন্য কেউ যোগ দিয়ে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করাও।

সৌরভ ও রাঙ্কার উদ্দেশে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘‘আপনারা একটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই আপনারাই যখন ব্যারিকেড ভাঙছেন, আপনাদের সমর্থক এবং অনুগামীরাও তা করতে পারেন। সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়। এমনও লোকজন সেখানে থাকতে পারেন, যাঁরা আপনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তখন কী ভাবে সামলাবেন?’’

উল্লেখ্য, শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে এর আগে সৌরভ, রাঙ্কা এবং সিজেপি প্রধান অভিজীত দিপকেকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, সেই শর্ত লঙ্ঘন করেই গেট টপকে নিষিদ্ধ যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন সৌরভেরা। বুধবার দিল্লি হাই কোর্টেও এই শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বিচারপতি প্রসাদ আরও মন্তব্য করেন, প্রথমে এটি ছাত্রবিক্ষোভ ছিল, যেখানে তরুণেরা যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আন্দোলনের চরিত্র বদলে যায়। ‘জেন জ়ি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘প্রথমে এটা ছাত্রবিক্ষোভ ছিল। তরুণরা যোগ দিয়েছিলেন। এখন তা অন্য রকম হয়ে গিয়েছে। মানুষগুলো একই আছে, কারণ পাল্টে গিয়েছে।’’

পরে সিজেপি দিল্লি হাই কোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লির আদালতের নির্দেশে জেলমুক্ত হন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.