নিস্তব্ধ আইপ্যাকের কলকাতা কার্যালয়: প্রচারের মাঝপথেই কর্মীদের লম্বা ছুটিতে অনিশ্চয়তা

নিস্তব্ধ আইপ্যাকের কলকাতা কার্যালয়: প্রচারের মাঝপথেই কর্মীদের লম্বা ছুটিতে অনিশ্চয়তা

ঝলমলে আলোর বদলে এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের যে কার্যালয় থেকে একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী রণকৌশল পরিচালিত হতো, সোমবার বিকেলে সেই কার্যালয়ের ছবি ছিল একেবারেই অন্যরকম। কার্যালয়ের কাঁচের দরজায় ঝোলানো শিকল দিয়ে বাঁধা তালা এবং অন্দরমহলের খাঁ-খাঁ করা পরিবেশ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে, আইপ্যাকের (I-PAC) কাজে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে।

কার্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি

সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের বিশাল ফ্লোরটি প্রায় অন্ধকার। রিসেপশন টেবিলে রাখা মহাত্মা গান্ধীর ছবির উপর স্পটলাইট জ্বললেও, অফিসের ডেস্কগুলো খালি। হাতে গোনা কয়েকজন হাউস কিপিং কর্মী দফতর পরিষ্কারের কাজ করছেন। তবে কর্তৃপক্ষের তরফে তেমন কোনো ব্যস্ততা চোখে পড়েনি। অফিসের অন্দরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডির ছবি ঝোলানো থাকলেও, কর্মীদের অনুপস্থিতিতে এক অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।

ইমেইল ও ছুটির বিতর্ক

শনিবার গভীর রাতে আইপ্যাকের কর্মীদের পাঠানো একটি ইমেইল ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে পশ্চিমবঙ্গের প্রচারমূলক কাজ ২০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে। ইমেলটিতে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিবৃতি দিয়ে দাবি করা হয়, আইপ্যাকের কাজ বন্ধের খবর ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা’। তবে মজার বিষয় হলো, তৃণমূলের এই দাবির বিপরীতে আইপ্যাক কর্তৃপক্ষ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ইমেলটিকে অস্বীকার করেনি।

কর্মীদের অনিশ্চয়তা ও তৃণমূলের অবস্থান

আইপ্যাকের কর্মীদের মধ্যে এই আকস্মিক ছুটিতে যাওয়ার বার্তায় তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মীদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। তবে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার জনসভা থেকে কর্মীদের অভয় দিয়ে বলেছেন, ‘‘আমি কাউকে চাকরি হারা হতে দেব না।’’ রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও একই সুর বজায় রেখে জানিয়েছেন, দায়িত্বশীল দল হিসেবে তৃণমূল তাদের কর্মীদের পাশে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইপ্যাকের কর্মীদের ইমেলটি যদি ভুয়ো হতো, তবে সংস্থাটি নিশ্চয়ই তার প্রতিবাদ জানাত। ইমেলের সত্যতা বজায় থাকলেও তৃণমূল কেন একে ‘ভিত্তিহীন’ বলছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে আইপ্যাকের মূল কর্মীরা তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চালিয়ে গেলেও, সংস্থার দাপ্তরিক পরিকাঠামো এখন কার্যত অচলাবস্থায়।

সল্টলেকের জলাভূমির তীরের এই বহুতল কার্যালয়টিতে আইপ্যাক কবে আবার পুরোদমে ফেরে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.