আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও কূটনৈতিক মঞ্চে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লি সফরে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, আগামী ১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ‘ব্রিকস’ (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি দিল্লিতে উপস্থিত থাকবেন। চলতি বছর ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতি বা ‘চেয়ার’ হিসেবে ভারত এই বার্ষিক সম্মেলনটি আয়োজন করছে।
গত বছর (২০২৫) ডিসেম্বরে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সর্বশেষ নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন পুতিন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এটি হতে চলেছে রুশ প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় ভারত সফর।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসন্ন রাশিয়া সফর ও কূটনৈতিক তৎপরতা
এই মে মাসের শুরুতেই দিল্লিতে ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ। সফর চলাকালীন এক সাংবাদিক বৈঠকে লাভরভ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চলতি বছরেই রাশিয়া সফরে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সেরগেই লাভরভ বলেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিশ্চিত করেছেন যে, প্রথা অনুযায়ী এ বছর রাশিয়ান ফেডেরেশনে সফর করার পালা তাঁর। আমরা ইতিমধ্যেই এই শীর্ষস্তরের দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি।”
বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘ব্রিকস’-এর ক্রমবর্ধমান দাপট
একসময় ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল এই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গোষ্ঠী। তবে বিগত কয়েক বছরে এর পরিধি ও শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- নতুন অন্তর্ভুক্তি: ২০২৪ সালে এই জোটে নতুন সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত হয় মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। এরপর ২০২৫ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি ইন্দোনেশিয়া এই গোষ্ঠীতে যোগ দেয়।
- বিশ্বমঞ্চে ব্রিকস-এর প্রভাব: সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ মানুষ এই ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলিতে বসবাস করেন। গ্লোবাল জিডিপি (Global GDP)-র প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই অর্থনীতিগুলি থেকে। এছাড়া, সারা বিশ্বে সামগ্রিকভাবে যত ব্যবসা-বাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পন্ন হয়, তার ২৬ শতাংশই নিয়ন্ত্রিত হয় এই শক্তিশালী উন্নয়নশীল দেশগুলির মাধ্যমে।
সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এই শীর্ষ সম্মেলন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কৌশলগত সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

