বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় উপ হাই কমিশন (Assistant High Commission of India) প্রাঙ্গণ থেকে এক ভারতীয় আধিকারিকের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত আধিকারিকের নাম নরেন ধর (৩৮)। তিনি সেখানে প্রোটোকল অফিসার (Protocol Officer) পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও ধোঁয়াশায় ঢাকা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, “নরেন ধর ভারতীয় উপ হাই কমিশনে প্রোটোকল অফিসার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ উপ হাই কমিশনের ভেতর থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে।”
ঘরের মেঝেতে পড়েছিল দেহ, শরীরে নেই আঘাতের চিহ্ন
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর একটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় উপ হাই কমিশনের দোতলার একটি নির্দিষ্ট কক্ষে থাকতেন নরেন বাবু। মঙ্গলবার সকালে সেই ঘরের মেঝেতেই তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ আরও জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক সুরতহালে নিহতের শরীরে বা কক্পেক্টে কোনো ধরনের বাহ্যিক আঘাত বা ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, কোনো আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারছে না প্রশাসন।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য ৩৮ বছর বয়সী ওই ভারতীয় আধিকারিকের দেহ ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (Chittagong Medical College) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। এই বিষয়ে ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন বা ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি মেলেনি। উপ হাই কমিশনের মতো একটি সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় ভারতীয় আধিকারিকের এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

