অভিযুক্তের সুরক্ষা তদন্তের স্বার্থেই প্রয়োজন: আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ পানিহাটির বিধায়কের

অভিযুক্তের সুরক্ষা তদন্তের স্বার্থেই প্রয়োজন: আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ পানিহাটির বিধায়কের

আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ওপর ডিম ছোড়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন পানিহাটির বর্তমান বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। সাধারণ জনতার আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা একেবারেই কাম্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মামলা ও তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্তদের শারীরিক সুস্থতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে সম্প্রতি থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় জনরোষের মুখে পড়তে হয়। সেই সময় তাঁর ওপর ডিম বর্ষণ করে ক্ষুব্ধ জনতা।

“আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কাম্য নয়”

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রত্না দেবনাথ জানান, প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাই সাধারণ মানুষের আবেগপ্রবণ হয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, “যাঁরা অন্যায় করেছেন, তাঁরা ধরা পড়বেন। তবে আমাদেরও সচেতন থাকতে হবে যেন আমরা নিজেরা কোনো অন্যায় না করি। এই যে ডিম ছোড়ার ঘটনা— এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

তদন্তের স্বার্থ ও বয়সজনিত দিক

প্রাক্তন বিধায়কের বয়স এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা তুলে ধরে নির্যাতিতার মা জানান, বয়সজনিত কারণে আচমকা কোনো শারীরিক বিপদ ঘটলে মূল তদন্তই ব্যাহত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “উনি ৮০ বছরের একজন মানুষ। এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাঁর যদি শারীরিক কোনো বড় সমস্যা বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়, তবে আমরা আসল প্রমাণ এবং তথ্য কোথায় পাব!”

অতএব, নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্ত ব্যক্তির সুস্থ থাকা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

বিচার নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয়

তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় রেখে তিনি জানান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো অভিযুক্তই পার পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর ওপর তাঁর সম্পূর্ণ ভরসা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাক্তন কাউন্সিলরও দ্রুত গ্রেফতার হবেন।

উল্লেখ্য, নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার অভিযোগে তিন জনের নাম উঠে এসেছে— প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, নির্যাতিতার প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সোমনাথ দে। নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার হলেও সোমনাথ দে এখনো অধরা রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.