বাপের বাড়ি থেকে অতিরিক্ত চার লাখ টাকা এনে দিতে না পারায় গর্ভবতী বধূর ওপর চরম নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে স্বামী এবং শাশুড়িকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। তিন বছর আগের এই মর্মান্তিক ঘটনায় বুধবার সাজা ঘোষণা করেন চুঁচুড়া আদালতের তৃতীয় দায়রা বিচারক কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায়।
সাজা ও আদালতের নির্দেশ হুগলি জেলার মুখ্য সরকারি আইনজীবী শিবাজী দাস জানান, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা ২৫ বছরের রিম্পা কর্মকার হত্যা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় মঙ্গলবার অভিযুক্ত স্বামী রঞ্জিত সাহা এবং শাশুড়ি অর্চনা সাহাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। বুধবার বিচারক উভয়কে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি আইনি সাজা নিশ্চিত করেন।
ঘটনার পটভূমি ও পণের দাবি মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩ জুলাই বারাসতের রিম্পা কর্মকারের সাথে চুঁচুড়া রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা রঞ্জিত সাহার বিবাহ হয়। মৃতার পরিবার সূত্রে জানানো হয়, বিয়ের সময় পাত্রপক্ষের দাবি মেনে গয়না, আসবাবপত্র এবং নগদ টাকা দেওয়া সত্ত্বেও বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই রিম্পার ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করা হয়।
মৃতার পিতা পেশায় রংমিস্ত্রি শৈলেন কর্মকার জানান, বিবাহের মাত্র ১০ দিন পর বাপের বাড়িতে ফিরে রিম্পা তাঁর ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা জানান। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাপের বাড়ি থেকে অতিরিক্ত ৪ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সেই টাকা দিতে পারেনি রিম্পার পরিবার।
মর্মান্তিক পরিণতি ও পুলিশি পদক্ষেপ অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নিজ শ্বশুরবাড়িতে আত্মহত্যা করেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা রিম্পা কর্মকার। শৈলেনবাবু অভিযোগ করেন, ঐ দিন রাত ১১টায় খবর পেয়ে চুঁচুড়া হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। তবে সেখানে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না; তাঁরা দেহ হাসপাতালে ফেলেই পালিয়ে যান। ১৭ ফেব্রুয়ারি চুঁচুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার বাবা।
আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ মামলার শুনানিকালে মুখ্য সরকারি আইনজীবী তুলে ধরেন যে, রিম্পার মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে তাঁর বাবা-মা যখন মেয়েকে দেখতে গিয়েছিলেন, তখন দাবি করা ৪ লাখ টাকা আনা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে রিম্পার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা রিম্পার বাবা-মার ব্যাগ পর্যন্ত তল্লাশি করেছিল। আদালতে সাক্ষ্যদানের সময় এই বিবরণ উঠে আসে।
সমস্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেয়। চুঁচুড়া আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৃতার পরিবার।

