জেল থেকে মুক্তির পরই বিস্ফোরক নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী: মনোনয়ন প্রত্যাহারে পুলিশি ‘চাপ ও প্রলোভন’-এর অভিযোগ মিলন প্রধানের

জেল থেকে মুক্তির পরই বিস্ফোরক নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী: মনোনয়ন প্রত্যাহারে পুলিশি ‘চাপ ও প্রলোভন’-এর অভিযোগ মিলন প্রধানের

আদালত থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়ে জেল থেকে মুক্তির পরই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর দাবি, প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের একাংশ তাঁর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং একাধিক লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল।

কী ঘটেছিল ১৮ সেপ্টেম্বর? কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর বুধবার জেল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মিলন প্রধান। তিনি জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীপুরে প্রচার শেষে বিশ্রামের সময় আচমকা সাদা পোশাকের পুলিশ এসে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, “গাড়িতে গামছা দিয়ে আমার চোখ বেঁধে চণ্ডীপুর থেকে মন্দারমণির এক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চোখ বাঁধা অবস্থাতেই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আমাকে বলা হয়, যা চান তাই কালকের মধ্যে পেয়ে যাবেন, শুধু প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে নিন।” কিন্তু তিনি নিজের আদর্শে অনড় থেকে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে দাবি প্রার্থীর। তাঁর অভিযোগ, এরপর রাত আড়াইটে-তিনটে নাগাদ তাঁকে পুনরায় চণ্ডীপুরে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার দেখানো হয়।

উত্থাপিত এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের সত্যতা জানতে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা এবং নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয় কুমার মিশ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক পটভূমি ও প্রার্থীর বার্তা উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তৃণমূল শীর্ষনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঐ আসনে কংগ্রেসকে সমর্থন জানানোর কথা ঘোষণা করেন। তার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই ২০০৭ সালের একটি পুরোনো মামলার সূত্রে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জেলমুক্তির পর রাজনৈতিক সমীকরণ ও উপনির্বাচন নিয়েও মুখ খোলেন মিলন প্রধান। বিজেপি প্রার্থী তথা প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথের নাম উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন একজন “বহিরাগতকে” প্রার্থী করা হলো? নন্দীগ্রামের কোনো ভূমিপুত্র কেন টিকিট পেলেন না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় উন্নয়নের অভাবের দিকেও আঙুল তোলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ “সাজানো ও মিথ্যা” বলে দাবি করেন।

আদালতের নির্দেশ ও আইনি পরিস্থিতি কলকাতা হাইকোর্ট মিলন প্রধানকে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। আদালতের শর্তানুযায়ী:

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে হলদিয়া আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
  • জামিনে থাকাকালীন প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৯টায় সংশ্লিষ্ট থানার তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখতে হবে।
  • আগামী ২১ অক্টোবর হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত রয়েছে।

এদিকে, হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিম্যধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। তবে কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, এই আইনি পদক্ষেপে কোনো লাভ হবে না এবং তাঁদের প্রার্থী গণতান্ত্রিকভাবেই লড়াই চালাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.