কোভিড পরিস্থিতিতে কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তা সঠিকভাবে ব্যবহার না করা এবং জমি লিজে আর্থিক লোকসানসহ বিগত সরকারের আমলে সরকারি অর্থ খরচে বিপুল অসঙ্গতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি বা ক্যাগ)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে। শনিবার রাজ্য বিধানসভায় এই ক্যাগের অডিট রিপোর্ট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
অডিট পর্যবেক্ষণ ও বিগত সরকারের আর্থিক অসঙ্গতিসমূহ বিধানসভার সামনে তুলে ধরতেই এই রিপোর্ট পেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বর্তমান সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। বিধানসভায় রিপোর্ট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “এই রিপোর্টগুলো পড়লেই বোঝা যাবে, কেন রাজ্যের ওপর ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঘাটতি দাঁড়িয়েছে।”
কোভিড তহবিল ও পিএম কেয়ার্সের খরচে অনিয়ম
সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোভিড মহামারীকালীন আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে যে আর্থিক প্যাকেজ বরাদ্দ করেছিল, ২০২২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তার ৬৫৯.২৮ কোটি টাকা—যা মোট প্যাকেজের প্রায় ৬৫ শতাংশ—অব্যবহৃতই থেকে গিয়েছিল।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়, কোভিডের সময় পিএম কেয়ার্স (PM CARES) তহবিল এবং বিভিন্ন কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যে ৭৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে ক্যাগের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সেগুলির মধ্যে মাত্র ৩২টি চালু ছিল; বাকি প্ল্যান্ট ও ভেন্টিলেটরগুলোর একাংশ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।
জমি লিজে ১৩ কোটি টাকার লোকসান
স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি শিল্পোন্নয়ন নিগমের আর্থিক লোকসানের বিষয়টিও ক্যাগ রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়েছে। নদিয়ার হরিণঘাটায় শিল্প পার্ক গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে ১,৩২৬.৯৩ একর জমি বরাদ্দ করেছিল রাজ্য। ক্যাগের পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, এই জমির অংশ থেকে একটি ই-কমার্স সংস্থাকে ৯৯ বছরের লিজে জমি দেওয়ার সময় অযোগ্য জলাভূমিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে শিল্পোন্নয়ন নিগমকে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
চার বছর পর বিধানসভায় রিপোর্ট পেশ
উল্লেখ্য, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত টানা চারটি অর্থবর্ষের ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। শনিবার রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালের মোট ২৮টি সিএজি অডিট রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে জানান, বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পেশ করা অডিট রিপোর্টগুলির মধ্যে রাজ্য সরকারের সার্বিক ‘ফিনান্স অডিট’ ছাড়াও পঞ্চায়েতি রাজ, স্বাস্থ্য ও ভূমি দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর খরচ সংক্রান্ত অডিট পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

