বাইচুংয়ের ২৯ বছর পর ডার্বিতে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক: ইস্টবেঙ্গলকে ২২ বছর পর ডুরান্ড এনে লাল-হলুদের নয়নের মণি এডমুন্ড

বাইচুংয়ের ২৯ বছর পর ডার্বিতে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক: ইস্টবেঙ্গলকে ২২ বছর পর ডুরান্ড এনে লাল-হলুদের নয়নের মণি এডমুন্ড

ডুরান্ড কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর ট্রফি পুনরুদ্ধার করল ইস্টবেঙ্গল। রবিবারের মহা-ফাইনালে অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক করে জয়ের নায়ক মিজোরামের ফরোয়ার্ড এডমুন্ড লালরিনডিকা। ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ডার্বি ম্যাচে হ্যাটট্রিকের এই অনন্য কীর্তি দীর্ঘ ২৯ বছর পর ফের অর্জিত হলো। এর আগে ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালে বাইচুং ভুটিয়া ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ডার্বিতে প্রথম ও একমাত্র হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন। বাইচুংয়ের সেই একক নজির স্পর্শ করে এডমুন্ড এখন লাল-হলুদ সমর্থকদের নয়নের মণি

ডার্বির ঘাতক স্ট্রাইকার ও হাবাসের মাস্টারস্ট্রোক

মোহনবাগান সামনে এলেই যেন বাড়তি উত্তাপে জ্বলে ওঠেন এডমুন্ড। জীবনের প্রথম ডার্বি, আইএসএলের একমাত্র ডার্বি এবং এবার ডুরান্ড কাপের ফাইনাল—প্রতিটি বড় মঞ্চেই গোল পেয়েছেন তিনি

আঘাতপ্রাপ্ত পিভি বিষ্ণুর স্থানে কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস এডমুন্ডকে শুরুর একাদশে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে ইন্টার কাশীতে হাবাসের অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। কোচের আস্থার মান রেখে ফাইনাল ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পর প্রথম ছুটে গিয়ে হাবাসকেই জড়িয়ে ধরেন মিজো স্ট্রাইকার

সর্বশিক্ষা অভিযান থেকে লাল-হলুদের মসনদ: সংগ্রামের ইতিহাস

মিজোরামের পাহাড়ি গ্রাম লুংলেই থেকে উঠে আসা এডমুন্ডের ফুটবল পথচলা সহজ ছিল না। ছোটবেলায় শারীরিক ফিটনেসের জন্য প্রচুর সাইকেল চালাতেন এবং বাবার স্টিলের দোকানে সাহায্য করতেন। ২০০৮ সালে গ্রামের সর্বশিক্ষা অভিযানের ম্যাচ খেলার সময় লুংলেই জেলা ফুটবল সংস্থার নজরে আসেন। সেখান থেকে মিজোরাম অনূর্ধ্ব-১২ দল এবং পরবর্তীতে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) আঞ্চলিক ও সংস্থাটির এলিট অ্যাকাডেমিতে নিজের ফুটবল শৈলীকে ধারালো করেন

পেশাদার ফুটবলে তাঁর পথচলা শুরু হয় বেঙ্গালুরু এফসি বি দল থেকে। পরবর্তীতে ইন্ডিয়ান অ্যারোজ, বেঙ্গালুরু এফসি, ইস্টবেঙ্গল (২০২০ সালে কোচ আলেসান্দ্রো মেনেন্দেজের অধীনে) এবং ইন্টার কাশী হয়ে পুনরায় লাল-হলুদ শিবিরে আসেন। কানাডার ক্লাব অ্যাটলেটিকো ওটাওয়ার প্রশিক্ষণ শিবিরে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে তিনি ভারতীয় ফুটবলে কাজে লাগাচ্ছেন

ভারতের যুব দলের পাশাপাশি সাবেক জাতীয় কোচ ইগর স্তিমাচের অধীনে সিনিয়র জাতীয় দলেও অভিষেক হয়েছে তাঁর। স্তিমাচ তাঁর ফিটনেস ও মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। উইং ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণ চিরে আক্রমণের এই ধরণ তিনি শিখেছেন প্রিয় ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও উইলফ্রেড জাহার খেলা দেখে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.