কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকার একটি অভিজাত আবাসনে এক গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং প্রাণঘাতী আক্রমণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার দুপুরে রান্নাঘরে একাকী পেয়ে ৩২ বছর বয়সি এক মহিলার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। বাধার মুখে পড়লে রান্নাঘরের ছুরি দিয়েই তাঁর ওপর আঘাত হানা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পরপরই ট্রেন ধরে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশি তৎপরতায় দুর্গাপুর স্টেশন থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রান্নাঘরে চড়াও ও প্রাণঘাতী হামলা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর ৩টে নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। আক্রান্ত ওই মহিলা সংশ্লিষ্ট আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে একা কাজ করছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি রান্নাঘরে ঢুকে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
মহিলা আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ গড়ে তুললে অভিযুক্ত রান্নাঘরে রাখা ছুরি দিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি আঘাত চালিয়ে পালিয়ে যান। রক্তাত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ইএম বাইপাসের সংলগ্ন একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পঞ্জাব মেল থেকে দুর্গাপুরে পাকড়াও অভিযুক্ত
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই আনন্দপুর থানার পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। মামলার গুরুত্ব বুঝে অভিযানে যুক্ত হয় লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখাও। তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ গোপনে খবর পায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি কলকাতা ছেড়ে পঞ্জাব মেলে চড়ে চম্পট দিচ্ছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে রেল পুলিশকেও (আরপিএফ) খবর পাঠানো হয়। এরপর যৌথ পদক্ষেপে আরপিএফ-এর সহায়তায় দুর্গাপুর স্টেশন থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখা তাঁকে ইতিমধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির পাশাপাশি খুনের চেষ্টার (Attempt to Murder) মামলা যুক্ত করা হয়েছে।

