কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় ঢাকল নিউ ইয়র্ক, বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালের আগে ফুটবলারদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় ঢাকল নিউ ইয়র্ক, বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালের আগে ফুটবলারদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। আগামী রবিবার নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। কিন্তু এই মেগা ফাইনালের কাউন্টডাউন শুরু হতেই আয়োজকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে নিউ ইয়র্কের আকাশ। কানাডার ভয়াবহ দাবানলের জেরে তৈরি হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকে গিয়েছে গোটা নিউ ইয়র্ক শহর, যার ফলে প্রবল উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে দুই দলের ফুটবলার এবং খেলা দেখতে আসা হাজার হাজার দর্শকের স্বাস্থ্য নিয়ে।

জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে কানাডার প্রায় শতাধিক জায়গায় দাবানল চলছে। সেখান থেকে হু হু করে ধেয়ে আসা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে আমেরিকার নিউ ইয়র্কের আকাশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শহরের সুউচ্চ বহুতলগুলির চূড়াও দৃশ্যমান হচ্ছে না, আকাশের রং ধারণ করেছে গাঢ় কমলা। বাতাসের গুণগত মান (AQI) মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় প্রশাসনের তরফে সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের ফাইনালকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বৃহস্পতিবার এক সতর্কবার্তায় বলেন, ‘‘আজ বিশ্বকাপের সবচেয়ে খারাপ দিন হতে চলেছে। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কেবল অ্যাজমা বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের জন্যই নয়, সকলের শরীর খারাপ করতে পারে। প্রত্যেক নিউ ইয়র্কবাসীর এখন অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।’’

এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই সেমিফাইনাল শেষ করে নিউ ইয়র্কে এসে পৌঁছেছে স্পেনের দল। ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা শহরের মাঠেই অনুশীলন সারতে হয়েছে তাদের। তবে স্প্যানিশ শিবির থেকে এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি এবং অনুশীলনে ফুটবলারদেরও দৃশ্যত কোনও সমস্যায় পড়তে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা দল এখনও টেক্সাসেই অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছে শুক্রবার থেকে তাদের অনুশীলনে নামার কথা রয়েছে।

রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ৩টে থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াই শুরু হবে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফাইনালের আগে শনিবার নিউ ইয়র্কে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের আশা, বৃষ্টি হলে বাতাসে ভাসমান দূষিত কণা থিতিয়ে যেতে পারে এবং বাতাসের মানের কিছুটা উন্নতি হতে পারে। ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে দুই শিবিরের কর্মকর্তারাও এখন সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.