কলকাতা ফুটবল লিগে কিছুতেই কাঙ্ক্ষিত ছন্দে ফিরতে পারছে না মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। কাস্টমসের কাছে হারের পর এ বার ভবানীপুরের কাছেও হেরে পর পর দুই ম্যাচে পয়েন্ট খোলাল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। শুক্রবার ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে দুই গোল নিশ্চিত করে মোহনবাগানকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে ভবানীপুর।
গত ম্যাচে পরাজয়ের পর এই ম্যাচটি মোহনবাগানের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হলেও, মাঠে তাদের পারফরম্যান্স ছিল বেশ দিশাহীন। অন্যদিকে, ম্যাচের শুরু থেকেই নজরকাড়া ফুটবল উপহার দেয় ভবানীপুর। তাদের আক্রমণভাগের দুই তারকা সাহিল হরিজন ও জিতেন মুর্মু শুরু থেকেই মোহনবাগান রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন। ম্যাচের ৮ মিনিটেই প্রথম সুযোগ পায় ভবানীপুর। এর পর ১২ মিনিটে জিতেনের একটি দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট কোনোমতে রুখে দেন মোহনবাগান গোলকিপার দীপ্রভাত ঘোষ।
প্রথমার্ধে মোহনবাগান আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও তা কার্যকর হচ্ছিল না। ১৯ মিনিটে সবুজ-মেরুন একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ৩৪ মিনিটে কিয়ান নাসিরির শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে কিয়ানের নেওয়া একটি বিপজ্জনক ফ্রিকিক কোনোমতে বিপন্মুক্ত করেন ভবানীপুরের গোলকিপার আদিত্য পাত্র।
দ্বিতীয় পর্যেও ভবানীপুরের আধিপত্য বজায় থাকে। ৭০ মিনিটে দীপ্রভাতের ভুলে মোহনবাগান গোল হজম করা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। তবে অবশেষে ৮০ মিনিটে ভাঙে মোহনবাগানের প্রতিরোধ। বিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে দর্শনীয় গোল করে ভবানীপুরকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সাহিল হরিজন। গ্যালারিতে উপস্থিত তাঁর বাবাও এই গোলে উল্লাসে মেতে ওঠেন।
তবে সেই আনন্দ বেশি ক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৮৬ মিনিটে ভবানীপুর রক্ষণের মনোযোগের অভাবে সমতা ফেরান মোহনবাগানের বিভানজ্যোতি লস্কর। কিন্তু সমতা ফেরালেও শেষ রক্ষা হয়নি সবুজ-মেরুনের। খেলা শেষ হওয়ার ঠিক দু’মিনিট আগে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে ভবানীপুরের জয় নিশ্চিত করেন রবি হাঁসদা।
এই জয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ৫টি জয়ে মোট ১৬ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা লিগের শীর্ষস্থান দখল করল ভবানীপুর। ৫ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে, ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে নেমে গেল মোহনবাগান।

