মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট আট গোল দিলেও সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারল না ইস্টবেঙ্গল। তবে বেঙ্গালুরুর ক্লাব সাউথ ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই সুগম করে ফেলল লাল-হলুদ ব্রিগেড। শুক্রবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল ইস্টবেঙ্গলের একচেটিয়া দাপট। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলেও, সেরা দুই দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দলের অন্যতম হয়ে শেষ আটে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গোলপার্থক্যে অনেকটাই সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে আন্তোনিও হাবাসের দল। এ দিনের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে মরসুমের প্রথম গোল পান মহম্মদ রশিদ এবং ক্লাবের জার্সিতে অভিষেক ঘটে অস্ট্রেলীয় স্ট্রাইকার ক্রিস ইকনোমিডিসের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। প্রাথমিক একটি সুযোগ হাতছাড়া হলেও খেলার ৬ মিনিটের মাথায় দানি দারুণ এক দূরপাল্লার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ডান প্রান্তে রশিদের থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে তিনি লক্ষ্যভেদ করেন, যা ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। প্রথম গোলের পর লাল-হলুদের আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ে। ২৪ মিনিটে কর্নার থেকে সতীর্থের বাড়ানো হেডে পুনর্নির্ধারিত শটে চমৎকার হেডে ব্যবধান ২-০ করেন রশিদ। এর পর রামিরেজ ও পি ভি বিষ্ণু সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে প্রথমার্ধেই ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বিপিন সিংহকে মাঠে নামান কোচ হাবাস, যার ফলে বাঁ প্রান্তে আক্রমণের ধার আরও বৃদ্ধি পায়। সাউথ ইউনাইটেড রক্ষণাত্মক কৌশল নিলেও ৬১ মিনিটে খেলার বিপরীত স্রোতে তাদের খেলোয়াড় দানিয়াল গোলকিপার গৌরবকে একা পেয়েও সুযোগ নষ্ট করেন। এর পরেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল।
৭৩ মিনিটে হার্দিক ভট্টের দূরপাল্লার শট বিপক্ষ গোলকিপারের হাতে লেগে জালে প্রবেশ করলে স্কোরলাইন ৩-০ হয়। ৮১ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে দুর্দান্ত ফিনিশ করে দলের চতুর্থ গোলটি করেন বিপিন সিংহ। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ কিকে সাউথ ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের চরম ভুলকে কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের শটে লাল-হলুদের পঞ্চম ও শেষ গোলটি নিশ্চিত করেন ডেভিড লালানসাঙ্গা।

