কেন্দ্রের শাসকজোট এনডিএ-র (NDA) সংসদীয় দলের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেল নবগঠিত দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)। রবিবার সন্ধ্যায় এনসিপিআই নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ফোনে শাসকজোটের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক পত্র মারফত আমন্ত্রণপত্র আসা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রাক্কালে রবিবার বিকেলে সংবিধান সদনে (পুরনো সংসদ ভবন) নিজেদের প্রথম বৈঠকটি সারে এনসিপিআই। লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়সহ মোট ১৬ জন সাংসদ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্রের খবর, সাংসদ জুন মালিয়া ও পার্থ ভৌমিক রাতের বিমানে দিল্লি পৌঁছোবেন বলে আগেই নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন। তবে এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না দেব এবং ইউসুফ পাঠান।
তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার সময়ই এই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা এনডিএ জোটকে সমর্থন করবেন। গত শনিবার দিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় এক ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকের পর এই রাজনৈতিক সখ্যতা আরও মজবুত হয়। সুদীপবাবু জানান, তাঁরা এনডিএ-র সিদ্ধান্তের সঙ্গেই চলবেন। তবে জোটের অন্দরে এনসিপিআই সাংসদেরা যাতে নিজেদের শাসকদলের অংশ হিসেবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেই অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন।
একই সঙ্গে এ দিনের বৈঠক থেকে দলের নীতিগত অবস্থানের একটি বড় দিক স্পষ্ট করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব এলাকাভিত্তিক কোনও সমস্যা নিয়ে এনসিপিআই সাংসদেরা দিল্লিতে দরবার করবেন না; বরং সেই সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য তাঁরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হবেন।
অন্য দিকে, রবিবারের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। সকালে সংসদের সর্বদল বৈঠকে তৃণমূলের পাশাপাশি এনসিপিআই-কেও আমন্ত্রণ জানানো হলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহুয়া মৈত্র এবং সৌগত রায়ের মতো তৃণমূল সাংসদেরা। স্পিকার ওম বিড়লা এখনও এই ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি এবং লোকসভার ওয়েবসাইটে এখনও তৃণমূলের আসনসংখ্যা ২৮ দেখাচ্ছে— এই যুক্তি তুলে ধরে কংগ্রেস, সপা, সিপিএম, ডিএমকে-সহ বিরোধী দলগুলিকে সাথে নিয়ে প্রতীকী সভাত্যাগ করেন মহুয়ারা। যদিও পরবর্তীকালে তাঁরা আবারও বৈঠকে যোগ দেন।
সর্বদল বৈঠক শেষে মহুয়া-সৌগতদের এই বিরোধিতাকে কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরা। সুদীপবাবু মনে করিয়ে দেন, হাজি নুরুলের মৃত্যুর পর তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৮-এ, যার মধ্যে ২০ জন সাংসদ এখন এনসিপিআই-এর শিবিরে। ফলে কালীঘাট শিবিরের হাতে পড়ে রয়েছে মাত্র ৮ জন সাংসদ।
এই সমীকরণকে হাতিয়ার করেই স্পিকারের কাছে তৃণমূলের (কালীঘাট শিবির) আসন পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা বলেছি, কোনও ছোট দলকে যেন প্রথম সারিতে আসন না দেওয়া হয়। ২৮ জনের থেকে ২০ জন বেরিয়ে গেলে সেই দল তো ৮ জনের হয়ে যায়। যে দলের যেখানে স্থান, তাদের সেখানেই বসার জায়গা দেওয়া হোক।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, লোকসভায় এনডিএ জোটের শরিকদের মধ্যে চন্দ্রবাবু নায়ডুর টিডিপি (১৬ আসন) এবং নীতীশ কুমারের জেডিইউ (১২ আসন)-এর চেয়েও বেশি আসন নিয়ে এনসিপিআই এখন শাসকজোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি।

