রাজ্যের শিল্প ও দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে বিশ্বের বৃহত্তম দই প্রস্তুতকারী কারখানার শিলান্যাস করা হলো। রবিবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে ভার্চুয়ালি ‘আমূল’ (Amul)-এর এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের অন্তর্গত আমূল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে হাওড়ায় এই বিশাল কারখানাটি গড়ে তুলতে চলেছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৩০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি দৈনিক ১০ লক্ষ কিলোগ্রাম দই এবং বিপুল পরিমাণ অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদিত হবে এই প্ল্যান্ট থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্যাম স্টিল এবং টোডি গোষ্ঠীর হোসিয়ারি কারখানার সম্প্রসারণ প্রকল্পের পর আমূলের এই মেগা প্রজেক্টকে রাজ্যের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে নাম না করেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের একটি মন্তব্যকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী দু’জনেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না’ সংক্রান্ত পুরনো অবস্থানকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘কারা যেন বলত, বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না! তাঁরা আজ ঘরে বসে টিভিতে দেখছেন, আমূল আজ ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য।’’
একই সুর শোনা যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কণ্ঠেও। রাজ্যের পূর্বতন সরকারের অনড় মনোভাব এবং বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকারের সহযোগিতার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘আমূল আজ দেশের তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই উৎপাদন প্রকল্পের শিলান্যাস করল। একসময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলে বলা হত, গুজরাতকে আমরা ঢুকতে দেব না। আরে ভাই, এটা গুজরাতের জন্য নয়, বাংলার পশুপালকদের জন্য জরুরি। কিন্তু সরকারের পরিবর্তন দেখুন— আমি গাড়িতে যেতে যেতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে জমি দেওয়ার কথা বলেছিলাম, তিনি সঙ্গে সঙ্গেই সম্পূর্ণ নিঃশুল্কে আমূল ফেডারেশনকে জমি দিয়েছেন। এর ফলে দুই থেকে আড়াই লক্ষ দুগ্ধ উৎপাদক বেশি টাকা উপার্জনের সুযোগ পাবেন।’’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম দুটি ১৫ একর করে জায়গা দিতে, যাতে সারা পূর্ব ভারতের দুধ উৎপাদনের ব্যবস্থা এখান থেকেই হতে পারে। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকার প্রাণিসম্পদ বিকাশ মন্ত্রককে কাজে লাগিয়ে এ রাজ্যে পশুপালন ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দেবে, যাতে বিকল্প কর্মসংস্থানের গতি আরও বৃদ্ধি পায়।
এই ভার্চুয়াল শিলান্যাস কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য সরকারের আশা, আমূলের এই ৭০০ কোটি টাকার মেগা বিনিয়োগের ফলে রাজ্যে শুধু শিল্পোন্নয়নই হবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি কয়েক লক্ষ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে।

