নন্দীগ্রাম না ভবানীপুর? আসন ছাড়া নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটালেন শুভেন্দু অধিকারী

নন্দীগ্রাম না ভবানীপুর? আসন ছাড়া নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটালেন শুভেন্দু অধিকারী

হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্রেই জয়লাভ করেছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, শুভেন্দু শেষ পর্যন্ত কোন আসনটি নিজের হাতে রাখবেন? বুধবার নিজের রাজনৈতিক ‘ভদ্রাসন’ নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েই সেই ধোঁয়াশা কাটানোর চেষ্টা করলেন বিজেপি নেতা।

‘ভদ্রাসন’ বনাম খাসতালুক: টানাপোড়েন শুভেন্দুর

নন্দীগ্রাম শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থানের পীঠস্থান। ২০০৭ সালের ভূমি আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৬ ও ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন— বারবার নন্দীগ্রাম তাঁকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি এই জনপদকে নিজের ‘ভদ্রাসন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

অন্যদিকে, এ বার কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রেও জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। মমতার খাসতালুক হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে ‘পাড়ার মেয়ে’কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে তিনি এক নয়া নজির গড়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই, নতুন জয়ী হওয়া ভবানীপুর আসন এবং দীর্ঘদিনের আবেগ জড়ানো নন্দীগ্রামের মধ্যে কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দোটানায় রয়েছেন শুভেন্দু।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

বুধবার সকালে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া ও হরিপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ঢল নামে। সেখানেই এক সভায় শুভেন্দু স্পষ্ট করেন যে, আসন ছাড়ার বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। তিনি বলেন:

“আমার মতামত যা-ই হোক, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যেটা ঠিক করবেন সেটাই হবে। আমি ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাপরায়ণ, তাই দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”

শুভেন্দু আরও জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে যে কোনো একটি আসন থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তবে কোন আসনটি রাখবেন, সেই চাবিকাঠি এখন দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বের হাতে।

‘কর্তব্য থেকে সরব না’: দুই কেন্দ্রের জন্যই বার্তা

আসন ছাড়ার জল্পনার মাঝেই ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনিভাবে তিনি যে আসনেরই বিধায়ক থাকুন না কেন, কার্যক্ষেত্রে দুই কেন্দ্রের মানুষের জন্যই তিনি সমানভাবে কাজ করবেন। সমর্থকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আমি আমার কর্তব্য থেকে সরে যাব না। দুই কেন্দ্রের জন্যই আমার যা করণীয়, তা আমি করব।”

নন্দীগ্রামের আবেগ ও শুভেন্দুর শৃঙ্খলা

এদিন ভাষণ চলাকালীন নন্দীগ্রামের কর্মী-সমর্থকেরা ‘আমাদের ছেড়ে যাবেন না’ বলে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। শুভেন্দু তাঁদের শান্ত করে জানান, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা মেনে চলা তাঁর প্রধান দায়িত্ব। তিনি সমর্থকদের প্রতি তাঁর ঋণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমি আপনাদের ঋণ শোধ করব, আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরে জয় বিজেপির কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও নন্দীগ্রামের সঙ্গে শুভেন্দুর নাড়ির টান অনেক গভীর। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে খাস কলকাতা অর্থাৎ ভবানীপুরেই থাকতে বলে নাকি পুরনো দুর্গ নন্দীগ্রামের বিধায়ক হিসেবেই রেখে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.