রাজ্যের পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র নজর এবার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মদন মিত্রের দিকে। কামারহাটির এই বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী ২৯ জুলাই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এই একই মামলায় ইডির তরফে মদন মিত্রের স্ত্রী এবং দুই পুত্রকেও তলব করা হয়। চলতি সপ্তাহেই তাঁদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।
মদন মিত্রের বাসভবনে সিবিআই ও ইডির তল্লাশি
গত জুন মাসে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে রাজধানী কলকাতা ও তৎসংলগ্ন শহরতলির মোট সাতটি স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। সেই সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা মদন মিত্রের ভবানীপুর এবং কালীঘাটের বাসভবনে হানা দেন। এ ছাড়া দক্ষিণেশ্বর, সন্তোষপুর, জোকা এবং বেলেঘাটার একাধিক স্থানেও অনুসন্ধান চালানো হয়।
এর আগে, গত বছরের অক্টোবর মাসে এই একই দুর্নীতির তদন্তে মদন মিত্রের বাড়িতে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই (CBI)। সেখানে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে টানা জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়েছিল।
দুর্নীতির আর্থিক বহর এবং সুজিত বসুর ভূমিকা
তদন্তকারীদের অনুমান, পুর নিয়োগ দুর্নীতির মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এই বেআইনি অর্থ লেনদেনের একটি বড় অংশ অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে।
এই দুর্নীতির তদন্তে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় অবৈধভাবে প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সুজিত বসু ও তাঁর পুত্র সমুদ্র বসুর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

