মেডিক্যাল প্রবেশিকা (নিট) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি। উচ্চ নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোককল্যাণ মার্গের বাসভবনের কাছে রাতভর ধর্না-বিক্ষোভের ডাক দিয়েও আটক হলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব।
মঙ্গলবার এই আন্দোলনে যোগ দেন কংগ্রেসশাসিত একাধিক রাজ্যের নেতা—কেরলের ভি ডি সতীশন, কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এবং এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যা নাগাদ দিল্লি পুলিশ আন্দোলনকারীদের আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়। অবশ্য রাতেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক নেতাকর্মীদের খোঁজ নিতে মন্দির মার্গ থানায় পৌঁছান কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।
সরকারের সমঝোতা চেষ্টা ও বিরোধীদের চার দফা দাবি
এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ওই উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ না করার আবেদন জানান। প্রধানমন্ত্রী আবাসনের কাছে ধর্না শুরু হলে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং ধর্নাস্থলে গিয়ে তাঁদের আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের বার্তা কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেন জীতেন্দ্র সিং।
তবে বিরোধী নেতৃত্ব তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকেন। সূত্রের খবর, চার দফা দাবিতে আন্দোলনকারীরা রাতভর ধর্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন: ১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ২. পুলিশি অত্যাচারের দায় স্বীকার করে মোদী সরকারের ক্ষমাপ্রার্থনা। ৩. সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। ৪. সংসদীয় বাদল অধিবেশনে নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
জীতেন্দ্র সিং দাবি করেন, নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনার প্রাথমিক দাবি মানা সত্ত্বেও বিরোধী দলগুলি পরবর্তীতে নতুন শর্ত চাপিয়ে দেয় এবং শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনড় থাকে।
সমাজমাধ্যমে রাহুলের বার্তা
এর আগে সকালে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে দেশবাসীকে তাঁদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি লেখেন:
“শিক্ষার্থীদের উপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের উপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদী যদি মনে করেন যে তিনি কোনও জবাব না-দিয়েই পার পেয়ে যাবেন— পারবেন না। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা যায় না।”
পটভূমি: ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ও বাদল অধিবেশনে আঁচ
মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার দুর্নীতির প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে সোমবারের সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে চরম অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা সংসদের প্রধান ফটক পর্যন্ত পৌঁছে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। সেই ঘটনার জেরে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। আন্দোলনের গতি কমাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডাকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি আন্দোলনকারী সিজেপি নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তাঁদের দাবি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর সময়েই শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ পুরো বিরোধী জোট রাজপথে নেমে আসায় মোদী সরকারের ওপর চাপ অনেকটাই বাড়ল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

