২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচার সূচি নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হতেই একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে— এ রাজ্যে তাঁর প্রচার অভিযানের অন্তিম গন্তব্য হতে চলেছে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। দলীয় সূত্রের খবর, দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটের আগে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী যে মেগা রোড শো করবেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই খাসতালুক।
প্রচারের রণকৌশল ও সময়সূচি
রাজ্যে প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩ এপ্রিল। তবে কলকাতার ভাগ্য নির্ধারিত হবে দ্বিতীয় দফায়, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল। প্রচারের তুঙ্গে থাকা সময়কাল ২৪ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় পদযাত্রা বা রোড শো করবেন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সূচিতে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোড শো-টি ভবানীপুর থেকে শুরু হবে নাকি সেখানে গিয়ে শেষ হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, ওই এলাকা যে মোদীর রুট ম্যাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকছে, তা নিশ্চিত। তবে সম্পূর্ণ যাত্রাপথটি এসপিজি (SPG) এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই জনসমক্ষে আনা হবে।
ভবানীপুর: ২০২৬-এর নির্বাচনী ‘ডার্বি’
এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি রাজ্য রাজনীতির আকর্ষণের কেন্দ্রে। ২০২১ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়ে ফের মুখোমুখি রাজ্যের দুই যুযুধান পক্ষ— মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
- প্রেক্ষাপট: গতবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে লড়তে গিয়েছিলেন, এবার শুভেন্দু অধিকারী মমতার গড়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে ভবানীপুরকে বেছে নিয়েছেন।
- তৃণমূল বনাম বিজেপি: ১৬ মার্চ বিজেপির প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পর থেকেই এই কেন্দ্রটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।
রাজপথের লড়াই ও সতর্ক প্রশাসন
শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ভবানীপুরের অলিগলিতে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। প্রচার চলাকালীন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান এবং উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে বিরোধী দলনেতা স্বয়ং ভবানীপুর থানায় গিয়ে পুলিশকে সতর্ক করে এসেছেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীও রবিবার থেকে নির্বাচনী জনসভা ও কর্মসূচির মাধ্যমে ময়দানে নেমে পড়েছেন।
“কলকাতার একাধিক বিধানসভা এলাকা ছুঁয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর রোড শো-র মূল লক্ষ্য যে ভবানীপুর, তা বিজেপির পরিকল্পনা থেকেই স্পষ্ট। মমতা ও শুভেন্দুর দ্বৈরথে মোদীর উপস্থিতি এই লড়াইকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।” — রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
উপসংহার
ভবানীপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং এটি বিজেপির একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক চাল বলে মনে করা হচ্ছে। মোদীর উপস্থিতিকে হাতিয়ার করে ভবানীপুরের ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে চাইছে গেরুয়া শিবির, যাতে এই মেগা লড়াইয়ে বাড়তি অক্সিজেন পায় দল।

