পাটুলিতে মধ্যরাতে শুটআউট: বাঘাযতীনে যুবক খুন, কাঠগড়ায় সিন্ডিকেটরাজ ও ‘রাতের পাখি’র দাপট

পাটুলিতে মধ্যরাতে শুটআউট: বাঘাযতীনে যুবক খুন, কাঠগড়ায় সিন্ডিকেটরাজ ও ‘রাতের পাখি’র দাপট

লোকসভা ভোটের আবহে ফের রক্তাক্ত কলকাতা। বুধবার মধ্যরাতে পাটুলি থানা এলাকার পূর্ব ফুলবাগানে রাহুল দে (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে অপর এক ব্যক্তি। স্থানীয় সূত্রের খবর, জিতের বাড়িতেই এই হামলা চালায় চার দুষ্কৃতী। ঘটনার নেপথ্যে সাট্টার ঠেক ও সিন্ডিকেটের বখরার লড়াই রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।

কে এই জিৎ মুখোপাধ্যায়?

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জিৎ ‘রাতের পাখি’ হিসেবে পরিচিত। তাঁদের দাবি, দিনের আলোয় জিতের দেখা না মিললেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাঙ্গুলিবাগান, নেতাজিনগর ও গড়িয়া এলাকায় তাঁর দাপট শুরু হয়। সমাজমাধ্যমে জিতের একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাঁকে স্থানীয় ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত এবং যাদবপুরের বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

কাউন্সিলরের সাফাই ও ‘বিস্ফোরক’ দাবি

ছবি প্রসঙ্গে কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত জানান, জনসভায় অনেকের সঙ্গেই ছবি থাকতে পারে, তা দিয়ে রাজনৈতিক যোগ প্রমাণ হয় না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে জিৎকে তিনি চিনতেন। বাপ্পাদিত্যের দাবি, “জিৎ অত্যন্ত উপদ্রবকারী ছেলে। রাত বাড়লে মদ্যপান করে সাধারণ মানুষকে মারধর করাই ছিল ওর কাজ। ওর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমি নিজেই তিন বছর আগে পুলিশকে বলে ওকে এলাকাছাড়া করেছিলাম।” কাউন্সিলরের দাবি অনুযায়ী, জিৎ দিন পনেরো আগে এলাকায় ফিরেছিলেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সিন্ডিকেটরাজ

পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে সাট্টার ঠেক ও অবৈধ কারবারের বখরার তত্ত্ব। অভিযোগ উঠেছে, পাটুলি ও গড়িয়া এলাকায় জিতের নামে একসময় ‘ওয়ান্টেড’ পোস্টার পড়লেও তিনি এলাকায় দাপট নিয়েই ঘুরতেন। বিরোধীদের দাবি, শাসকদলের মদতেই এলাকায় সমাজবিরোধীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরছে।

  • সিপিএমের তোপ: ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “তৃণমূল সমাজবিরোধীদের মাথায় তুলেছে। ভদ্রলোকরা মাথা নিচু করে চলছে আর অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে।” যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্যও এলাকায় নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
  • বিজেপির কটাক্ষ: বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মৃত এবং খুনি— দুজনেই তৃণমূল। এই রাজ্যে এখন তৃণমূলের হাতে তৃণমূলই আক্রান্ত হচ্ছে।”

বর্তমান পরিস্থিতি ও তদন্ত

বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার ও কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। বিধায়ক পুলিশকে নির্দেশ দেন পাশের একটি নির্মীয়মাণ ভবন ‘সিল’ করে দিতে। স্থানীয়রা এলাকায় সিসিটিভি বসানোর দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, দীর্ঘদিন পর রাহুল ও জিতের মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ হলো এবং কেনই বা তাঁদের ওপর হামলা চালানো হলো। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নির্বাচনের মুখে কলকাতার বুকে এমন অপরাধমূলক ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.