খেলার শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে মোহনবাগান। তবে ম্যাচের ১২ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল করে মহমেডানকে এগিয়ে দেন লালথানকিমা। কর্ণার থেকে আসা বলে গোল করে যুবভারতীর গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
মোহনবাগানের গোলবর্ষণ:
- ২২ মিনিট: জেসন কামিংসের পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশে সমতা ফেরান রবসন রোবিনহো।
- ২৭ মিনিট: মনবীর সিংয়ের শট আটকে গেলেও ফিরতি বলে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন রবসন।
- ৩৫ মিনিট: অমেয় রানোয়াড়ের ক্রসে কামিংসের হেড গোলকিপার বাঁচালেও ফিরতি বল জালে জড়ান জেমি ম্যাকলারেন।
প্রথমার্ধেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয় কার্যত নিশ্চিত করে ফেলে মোহনবাগান। তবে দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে রবসনের চোট। প্রথমার্ধের শেষ দিকে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে, পরিবর্তে নামেন দিমিত্রি পেত্রাতোস।
দ্বিতীয় আধিপত্য ও দিমিত্রির ম্যাজিক
দ্বিতীয়ার্ধেও কোচ সের্জিয়ো লোবেরার ছাত্ররা গোলের ক্ষুধা বজায় রেখেছিলেন।
- ৬২ মিনিট: অভিষেক সূর্যবংশীর ভাসানো বলে দর্শনীয় হেডে দলের চতুর্থ ও মরসুমের ব্যক্তিগত প্রথম গোলটি করেন মনবীর সিং।
- ৭০ মিনিট: ম্যাচের সেরা গোলটি আসে দিমিত্রি পেত্রাতোসের পা থেকে। মহমেডান গোলকিপার শুভজিৎকে কিছুটা এগিয়ে আসতে দেখে তাঁর মাথার ওপর দিয়ে চিপ করেন দিমিত্রি, যা ক্রসবারে লেগে জালে ঢুকে যায়।
শুভজিতের লড়াই ও লিগ টেবিল
বিদেশিহীন মহমেডান দল এদিন রক্ষণভাগে চূড়ান্ত ব্যর্থ হলেও গোলকিপার শুভজিৎ রুখে না দাঁড়ালে হারের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। সাহাল আব্দুল সামাদ ও ম্যাকলারেনের নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে মোহনবাগানকে পাঁচ গোলেই আটকে রাখেন এই বাঙালি গোলকিপার।
এক নজরে পরিসংখ্যান:
| বিষয় | তথ্য |
| ফলাফল | মোহনবাগান ৫-১ মহমেডান |
| স্কোরার (মোহনবাগান) | রবসন (২), ম্যাকলারেন, মনবীর, দিমিত্রি |
| স্কোরার (মহমেডান) | লালথানকিমা |
| লিগ পজিশন | ১ম (৩ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট) |
| গোল পার্থক্য | +৮ |
এই জয়ের ফলে লিগ তালিকায় শীর্ষে পৌঁছানোর পাশাপাশি গোলপার্থক্যও অনেকটা বাড়িয়ে নিল মোহনবাগান। অন্যদিকে, বড় হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন মহমেডানের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

