জম্মু-কাশ্মীরের বোলিং কোচ কৃষ্ণ কুমারের হাত ধরে তৈরি হওয়া আকিব নবি এই মরসুমে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। রঞ্জির ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে এক মরসুমে ৬০টি উইকেট (নক-আউটে ২১টি সহ) দখল করেছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নবির শক্তির জায়গা হলো তাঁর কব্জির পজিশন। ঠিক মহম্মদ শামির মতো তাঁর বলের ‘সিম’ একেবারে সোজা পিচে পড়ে দুই দিকেই মুভ করে। গতির চেয়েও তাঁর সুইং সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন লোকেশ রাহুলের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররা।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দরাজ সার্টিফিকেট:
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আকিব নবিকে সরাসরি জাতীয় দলে নেওয়ার দাবি তুলেছেন। সমাজমাধ্যমে অজিত আগরকর ও জয় শাহদের ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন:
“কঠিন পরিবেশ মানুষকে শক্তিশালী করে। আকিব নবি জাতীয় দলে খেলার যোগ্য। ইংল্যান্ডে (সুইং সহায়ক কন্ডিশন) ওর অভিষেক হওয়া উচিত।”
এক নজরে জম্মু-কাশ্মীরের ঐতিহাসিক জয়
| বিষয় | বিবরণ |
| সাফল্য | রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন। |
| মূল কারিগর | আকিব নবি (৬০ উইকেট) ও অধিনায়ক পরশ ডোগরা। |
| বড় জয় | কর্নাটকের মতো হেভিওয়েট দলকে পরাস্ত করা। |
| আইপিএল সংযোগ | দিল্লি ক্যাপিটালস আকিব নবিকে ৮.৪০ কোটি টাকায় কিনেছে। |
অভাব বনাম অদম্য মানসিকতা
মুম্বই, দিল্লি বা বাংলার মতো দলগুলোর কাছে যেখানে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি ও কোচিং সুবিধা, সেখানে জম্মু-কাশ্মীরে সারাবছর খেলার মতো মাঠ মাত্র দুটি। এই প্রতিকূলতাকে জয় করেই আব্দুল সামাদ, শুভম পুন্ডির এবং কামরান ইকবালরা প্রমান করলেন যে, আত্মবিশ্বাস থাকলে অর্থ ও সরঞ্জাম গৌণ হয়ে যায়। অভিজ্ঞ পরশ ডোগরার নেতৃত্বে এই দলে পাঁচজন ক্রিকেটার ছিলেন একদমই নতুন।
আইপিএলে পরিচিত মুখ আব্দুল সামাদের অকুতোভয় ব্যাটিং এবং আকিব নবির বিষাক্ত সুইং— এই দুই অস্ত্রেই কুপোকাত হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় বড় শক্তিগুলো।
ভারতীয় ক্রিকেটের জয়
জম্মু-কাশ্মীরের এই জয় শুধু একটি ট্রফি প্রাপ্তি নয়; এটি ভারতীয় ক্রিকেটের বিকেন্দ্রীকরণের প্রতীক। এখন আর শুধু বড় শহর নয়, বারামুল্লার মতো মফস্বল থেকেও যে বিশ্বমানের প্রতিভা উঠে আসতে পারে, তা প্রতিষ্ঠিত হলো। নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরদের নজর এখন নিশ্চিতভাবেই থাকবে উত্তরের এই পাহাড়ি উপত্যকার দিকে।

